চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি

ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলায় এখনো করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই কম-বেশি সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন এ জেলার মানুষ। বুধবার (৫ মে) আরো ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৮ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, শাহরাস্তি উপজেলার ৩ জন ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১ জন।
একই দিন ৩১ জনকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৮ জন, মতলব উত্তর উপজেলা ৩ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৭ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১ জন, কচুয়া উপজেলায় ১ জন ও শাহরাস্তি উপজেলায় ১ জন।
নতুন আক্রান্তসহ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,২৯৯ জন। মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১শ’ ১৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩,৭৫৮ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২৩ জন। আক্রান্তের মধ্যে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১৫ জন। বাকিরা হোম আইসোলেশন আছেন। গতকাল বুধবার ৯৪ জনের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসে।
অপরদিকে সরকার দেশে করোনাভাইরাসের টিকার চাহিদা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে। ভারতের সেরামের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে দেশে ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরবর্তীতে দেশটিতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে টিকা পেতে অনিশ্চয়তায় পড়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে জরুরিভিত্তিতে টিকা পেতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়ার দিকে হাত বাড়ায় সরকার। এবার চতুর্থ উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া চাঁদপুরে করোনার সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গত সোমবার জেলার সব উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩৩ মামলায় বিভিন্ন জনকে ৫ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিনা কারণে বাসা থেকে বের হওয়া, গণজমায়েত করা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখার অপরাধে ৩১টি মামলায় ৩১ জন ব্যক্তিকে মোট ৪হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিক ১০ মামলায় ১ হাজার ৮শ’ এবং সড়ক পরিবহন আইনের এক মামলায় ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেশমা আক্তার ৯ মামলায় ১ হাজার ৩শ’ ৫০, রিক্তা খাতুন ১২ মামলায় ১ হাজার ৪শ’, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২শ’ জরিমানা আদায় করেন।
এদিকে করোনা সংক্রমণরোধে কয়েকটি শর্ত শিথিল করে ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। সাথে ঈদুল ফিতরের জন্য তিন দিনের ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এই তিন দিন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলেই থাকতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার কথা গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটি তিনদিনই থাকবে এবার। আমাদের প্ল্যান ছিল একদিন ছুটি দেওয়ার। ঈদের ছুটির দু’দিন শুক্র ও শনিবারই মনে হচ্ছে যাবে। যাতে কেউ কোথাও যেতে না পারে এবং ঢাকা না ছাড়তে পারে। কারণ ঢাকা হচ্ছে করোনার উচ্চ সংক্রমণশীল এলাকা। ৮০ শতাংশ সংক্রমণই হয় ঢাকায়।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন ও নারী ১৮ জন। সরকারি হাসপাতালে ৩৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১২ জন ও তিনজন বাসায় মারা যান। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ হাজার ৭৫৫ জনে।
এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৭৪২ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সাত লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৮ জন। বুধবার (৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ৪২৭টি ল্যাবরেটরিতে ২০ হাজার ২১৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ২০ হাজার ২৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৮টি।
নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিন হাজার ৪৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

৬ মে, ২০২১।