চাঁদপুরে ক্ষীরার আবাদ বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
ক্ষীরা চাষে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। ক্ষীরা দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে চাঁদপুর জেলার চাষিরা ক্ষীরা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেচেন। এ বছল আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে আবাদ হয়েছে ৫৪৭ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৫ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ বেশী হয়েছে ৬২ হেক্টর।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষীরা আবাদ হয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলায়। সেচ প্রকল্পের বাইরের জমিতে পলিমাটির কারণে বীজ ও পরিচর্যা ছাড়া অন্য কোনো খরচ না হওয়ায় কৃষকরা ক্ষীরা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মৌসুমের শেষ মুহূর্তেও তারা ক্ষীরা বিক্রি করতে পারবেন। তবে শীত কেটে গেলে ক্ষীরার চাহিদা আরো বাড়বে। মূল্যও বেশি পাবে কৃষক। খচুরা একটি ক্ষীরাই বিক্রি হবে ৫-১০টাকা।
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ক্ষীরা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৪৭ হেক্টর। এর মধ্যে জেলা সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর, মতলব উত্তর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর, বাকী ৬ উপজেলায় হয়েছে ২০২ হেক্টর।
সরেজমিন চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর, আশিকাটি, শাহমাহমুদপুর, বাগাদি, বালিয়া, ইব্রাহীমপুর, লক্ষ্মীপুর, হানারচর, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপকভাবে ক্ষীরা আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা নদী উপকূলীয় এলাকায় কৃষকরা আগাম ক্ষীরা আবাদ করে বেশ লাভজনক অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে এবছর চরাঞ্চলেও ক্ষীরার আবাদ করতে দেখাগেছে।
ইতোমধ্যে সদর উপজেলার আশিকাটি ও শাহমামুদপুর ও বাগাদী ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের ক্ষীরা বেশ কয়েকবার বাজারে বিক্রি করেছেন। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল, গজরা ইউনিয়নে এবছর ক্ষীরা আবাদ নেমেছেন কৃষকরা। তারা প্রতিবছরই আগাম ক্ষীরা আবাদ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে থাকেন। একেক জমিতে একাধিকবারও ক্ষীরা আবাদ করেন জেলার কৃষকরা।
উপজেলার গজরা এলাকার কৃষক জাকির হোসেন জানান, এবার ৪০ শতাংশ জমিতে ক্ষীরা আবাদ করেছি। খরচ বাদ দিয়ে এবার কমপেক্ষ ১০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। একই এলাকার কৃষাণী নুরজাহান বেগম বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে জমিতে ক্ষীরা আবাদ করছি।
তিনি প্রায় এক হেক্টর জমিতে ক্ষীরা আবাদ করেছেন। পরিবারের সবাই জমিতে পরিচর্যা করেন। তাই আমাদের খরচ কম হয়েছে। তিনি আশাবাদী, এবছর তিনি কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার টাকা লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে তিনি প্রতিকেজি ক্ষীরা বিক্রি করেছেন ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজগাছতলা এলাকার কৃষক বিল্লাল গাজী বলেন, আমরা শুধুমাত্র ক্ষীরা নয়, একই জমিতে ভুট্টা ও আখের আবাদ করি। তবে ক্ষীরা খুব কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ার কারণে এলাকার অনেকেই আবাদ শুরু করেছেন। এবছর বেশ ভালো ক্ষীরা হয়েছে। দামও ভালো পেয়েছি। শুরুতে ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন শেষ সময়ে ক্ষীরা সাইজে ছোট তাই দামও একটু কম।
সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ গাজী বলেন, এবছর আমি ৩০ শতাংশ জমিতে ক্ষীরা ও সবজি চাষ করেছি। সবজি ভালো হয়েছে। একটু দেরিতে আবাদ করার কারণে ফলনও দেরিতে এসেছে। গতবছর ক্ষীরা আবাদ করে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এ বছর ক্ষীরাগুলো বড় হলে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করবো। তিনি আশা করছেন এবারের ক্ষীরা বিক্রি করে লাভবান হবেন।
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, চাঁদপুরে গত ২০ বছর ধরে কৃষকদের কাছে ক্ষীরা আবাদ খুবই জনপ্রিয়। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন। পুরো জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নয় হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, রবি মৌসুমে চাঁদপুর সদর ও মতলব উত্তর উপজেলায় ক্ষীরার আবাদ বেশি হয়। এবছর আবহাওয়া ভাল থাকার কারণে কৃষকদের ক্ষীরার জমিগুলোতে কোন ধরনের ক্ষতির সংবাদ পাইনি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সব সময়ই তত্ত্বাবধান করে আসছেন।

২৮ এপ্রিল, ২০২১।