চাঁদপুরে খ্রিস্টানদের কবরস্থানে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু-পাখি পালন

ব্রিটিশ আমলের কবরের ইট তুলে স্থাপনা নির্মাণ

এস এম সোহেল
চাঁদপুরে প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো খ্রিস্টান ধর্মের একমাত্র কবরস্থানটি দখলের কারণে দিনদিনই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। হাঁস-মুরগী, গরুর ঘর ও স্থাপনা নির্মাণ করে ৪০ ভাগ জমি দখল করে রাখায় খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানটি সংরক্ষণের জন্য চাঁদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পক্ষ থেকে সম্পাদক রসি বর্মন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের কাছে একটি লিখিত আবেদন প্রেরণ করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৫০ বছরের বেশি সময় হতে চাঁদপুরের নিশি বিল্ডিং এলাকায় পৌর ৭নং ওয়ার্ডে খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানটি অবস্থিত। দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি মামলাজনিত কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঐ কবরস্থানের জায়গা হীন উদ্দেশ্যে কুক্ষিগত করে রেখেছে। কবরস্থানের প্রায় ৪০ ভাগ জায়গা ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে উক্ত কবরস্থানে কবরের উপর গবাদি পশুসহ বিভিন্ন পশু অবাধে বিচরণ করছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ব্রিটিশ আমলের কবরের ইট তুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে উক্ত কবরস্থানে খ্রিস্টিয়ান চার্চ কর্তৃক কোন নিরাপত্তাকর্মী বা কেয়ারটেকার নেই। কবরস্থানের পবিত্রতা ও অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উদ্ধারে চাঁদপুরের সব খ্রিস্টিয়ানরা দাবি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের পাশে স্থাপনা নির্মাণ করে থাকছেন ও পশু-পাখি পালনের জন্য ঘর নির্মাণ করেছেন সত্য সরকার ও তার পরিবার। তিনি দাবি করছেন- এই কবরস্থানের পাশের ৫ শতক ৮৫ পয়েন্ট জায়গা মিশন তাকে কাগজ করে দিয়েছেন এবং সে কাগজের উপর তিনি সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করেন। আর চাঁদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ বলছেন, খ্রিস্টান ধর্মের একমাত্র কবরস্থানটি দখলের কারণে দিনদিনই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
সত্য সরকার বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ৪৫ বছর ধরে আমি খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানে আছি। এখন আমাকে কোন বেতন দেয়া হয় না। মিশন থেকে আমাকে জায়গাটুকু লিখে দিয়েছে। আমার চাকরি কিছু নেই, আমি এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব?
চাঁদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সম্পাদক রসি বর্মন বলেন, কবরস্থান কখনো বাসস্থান হতে পারে না। চাঁদপুর খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানটি একটি মহল হীন উদ্দেশ্যে দখল করে রেখেছে, এর ফলে কবরস্থানের জায়গাটি অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমরা খ্রিস্টিয়ানদের কোথায় কবর দেব, তা জানি না। চাঁদপুর খ্রিস্টিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য এই একটি মাত্র জায়গা রয়েছে। আমাদের চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয় যদি নগর পিতা হিসেবে আমাদের দাবিটুকু দেখতেন তাহলে আমরা খ্রিস্টান সম্প্রদায় উপকৃত হতাম।
তিনি আরও বলেন, কবরস্থানের পবিত্রতা দিন দিনই নষ্ট হয়ে আসছে। কারণ এর উপর গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীর খামার হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা আশা করব পৌর মেয়র আমাদের কবরের একটি সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও একটি সুন্দর চিত্র যেন আমরা পাই। যেন আমরা পবিত্রতার সাথে আত্মীয়-স্বজনকে সুন্দরভাবে কবরস্থ করতে পারি- এই কামনা করি।

১৯ ডিসেম্বর, ২০২২।