চাঁদপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে জাকির হোসেন বেপারি নামে এক লম্পট। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় ধর্ষণকারীর পরিবারের লোকজন ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে মডেল থানার এসআই নাসির পূর্ব রঘুনাথপুর পাগল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক জাকির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পূর্ব রঘুনাথপুর এলাকায় এক ব্যক্তির স্ত্রী কয়েক বছর আগে চলে যায়। তিনি তার দুই সন্তান বাড়িতে রেখে নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। সেই সুযোগে ঐ বাড়িতে একা পেয়ে মঙ্গল বেপারীর ছেলে জাকির হোসেন বেপারী গভীর রাতে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে কয়েকদিন ধর্ষণ করে। এই ঘটনা জানাজানি হলে লম্পট জাকির হোসেন কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে। এভাবে স্কুলছাত্রীকে তার ঘরে ঢুকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারের লোকজনদের জানায়। ঘটনা জানতে পেরে কিশোরীর বাবা মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে এসে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করে। পরে ধর্ষণকারী জাকির হোসেন বিষয়টি ৪০ হাজার টাকার বিনিময় সমঝোতা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জাকিরের পরিবারের লোকজন স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও পরিবারের লোকজনদের হত্যার হুমকি দেয়।
ধর্ষিতার বাবা জানান, বাড়িতে একা পেয়ে আমার মেয়েকে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে জাকির হোসেন। এ ঘটনায় জাকির টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করে প্রস্তাবে রাজি না হলে তার লোকজন এসে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। আমরা ধর্ষণকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
এদিকে থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ধর্ষিতা কিশোরীকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার ধর্ষিতার মেডিকেল চেকআপ করেন এবং ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় জাকির হোসেন বেপারী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
১২ নভেম্বর, ২০২০।