চাঁদপুরে জাটকা নিধনের দায়ে ১৪৭ জেলের কারাদণ্ড

দুই মাসে জেলা টাস্কফোর্সের ৪৫৮টি অভিযানে

স্টাফ রিপোর্টার
মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশের পোনা জাটকা নিধনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে ১৪৭ জেলেকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় ৯০ কিলোমিটারে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
দ-প্রাপ্ত জেলেদের মধ্যে ১ জনকে ২ বছর, ১৩৯ জনক ১ বছর করে এবং ৭ জনকে ১ মাস করে কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩৮ জেলেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেরিত বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই মাসে জেলা টাস্কফোর্স ১০৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। নদীতে দিন ও রাতে অভিযান করেন ৪৫৮টি। মাছঘাট পরিদর্শন করেন ৩২৬টি, আড়ৎ পরিদর্শন করেন ২৩৭০টি এবং বাজার ১১২৪টি।
অভিযানে ১৬ হাজার ৫১১ কেজি জাটকা ও ৯০ কেজি অনান্য মাছ জব্দ করা হয়। একই সময় অভিযানে ৩০ লাখ চিংড়ি রেনু পোনা জব্দ করে নৌ-পুলিশ। কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় ২৭২.১৪৭ লাখ বর্গমিটার। যার আনুমানিক মূল্য ৫৪ কোটি ৪২ লাখ ৯৪৭ টাকা। এসব ঘটনায় জেলা মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট থানায় ১৭১টি মামলা দায়ের করেন।
এসব অভিযানে উপজেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে জেলেদের বহু নৌকা জব্দ, ব্যবসায়িদের আড়ৎ পুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযান পরিচালনার সময় জেলেদের হামলার শিকার হন এডিএমসহ একজন মৎস্য কর্মকর্তা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদুল হাসান জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত ছিলো। জেলা ট্রাস্কফোর্সের সব সদস্য এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছিলো অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে। ১ মে থেকে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণে জেলেদের জন্য কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ১০ ইঞ্চি সাইজের নিচে জাটকা ইলিশ আহরণ সব সময়ই নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জানান, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় অভয়াশ্রমকালীন দুই মাস জেলা প্রশাসন, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। সবাই জাটকা রক্ষায় সহযোগিতা করেছেন।