চাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষি কর্মকর্তার মৃত্যু


স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে সুভাষ চন্দ্র মজুমদার (৫৫) নামের এক কৃষি কর্মকর্তার করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের মিশন রোড রেল ক্রসিংয়ের পশ্চিম দিকে রেললাইনের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুভাষ চন্দ্র মজুমদার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালির বাজার গ্রামের মৃত মহিন্দ্র চন্দ্র মজুমদারের ছেলে।
তিনি চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি স্বপরিবারে শহরের বিপণীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার এক ছেলে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মিশন রোড রেল গেটের পশ্চিম পাশে রেললাইনে বসা ছিলেন। ওই সময় লাকসাম থেকে ছেড়ে আসা সাগরিকা ট্রেনের আঘাতে তিনি রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চিকিৎসার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সারওয়ার আলম।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সুভাষ চন্দ্র মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি প্রায়ই হাটতে বেরুতেন। ঘটনার দিনও তিনি অফিস করার ফাঁকে হাটতে বের হন। তাদের ধারণা হয়তো অসুস্থতার কারণে ট্রেনের শব্দ শুনতে না পারায় এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
চাঁদপুর নতুন বাজার ফায়ার সার্ভিসের লিডার কবির হোসেন জানায়, আমরা ট্রেনে কাটা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সারওয়ার আলম জানান, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। নিহত ব্যক্তি একবার ব্রেন স্ট্রোক করেছে। তাকে প্রায় ২০ দিন আগে ভারত থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। মাঝে মধ্যে অফিসে যেত। এ ঘটনার আলোকে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামালা নং-৩, তারিখঃ ৪/২-২০২০। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে দিয়ে দেয়া হবে। সে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ায় তার পরিবার সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুযোগ পাবে। থানা থেকে তার মৃত্যুর সব কাগজ-পত্র সরবরাহ করে সহযোগিতা করবো।