চাঁদপুরে ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি

আজ ধান-চাল সংগ্রহের শেষ দিন

মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুরে চলতি মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না জেলা খাদ্য বিভাগ। সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে খুচরা বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় এই অবস্থা বলে দাবি করছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এর আগে প্রায় প্রতি বছর শতভাগ চাল সংগ্রহ করা হলেও চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, বোরো মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে ৪২ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন চাল এবং ২৭ টাকা কেজি দরে ৮ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ১২ মে শুরু হওয়া এই খাদ্য সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৮৫ মেট্টিক টন ধান সংগ্রহ করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।
চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে চাঁদপুরসহ সারা দেশে মিল মালিকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে একযোগে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। এ বছর চাঁদপুর জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন। এরমধ্যে চাঁদপুর জেলায় চাল সংগ্রহ করেছে ৫ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে এ বছর চাল সংগ্রহ অভিযানের জন্য জেলার ১৭ মিল মালিকের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করা হয়। কিন্তু সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে চালের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় চাল পাচ্ছে না খাদ্য বিভাগ।
জেলার মতলব উত্তর খাদ্যগুদামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তর খাদ্যগুদামে ২ হাজার ১১১ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ করা গেছে ১ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন।
খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরগুলোতে চাঁদপুর জেলায় সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ অভিযান শতভাগ সফল হয়ে আসছে। কিন্তু এ বছর কোনোভাবেই শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মিল মালিক বলেন, বাজারে বর্তমানে ধানের দাম বেশ চড়া। মোটা ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। লোকসান হওয়ার কারণে মিলাররা চাল সরবরাহ করতে চাচ্ছেন না। সরকারের উচিত ছিল দাম সমন্বয় করা।
একই কারণে খুচরা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকার কারণে সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে অনীহা দেখাচ্ছেন কৃষকেরা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহ জামাল বলেন, তেলের দাম বাড়ায় চালের দামও বেড়েছে। যে কারণে মিলাররা সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
মো. শাহ জামাল আরও বলেন, যেসব মিলার চাল সংগ্রহ করছেন না, তাদের সিডি জামানত বাজেয়াপ্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩১ আগস্ট, ২০২২।