শাহ্ আলম খান
চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা বালুচরে পর্যটকের হামলায় ১৪ জন নৌকার মাঝি ও দোকানি আহত
হয়েছে। গত শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকেলে একদল পর্যটক এ হামলায় ঘটনা ঘটায়। এ সময় সেখানকার দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে হামলাকারীরা।
কয়েকজন মাঝি জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রায় দেড় হাজার যুবক এমভি ফারহান-৯ লঞ্চে করে শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজারে আসেন। কিন্তু বিকেলের দিকে পর্যটকবেশী একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক হঠাৎ সেখানকার কয়েকটি টং দোকানে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এতে বাঁধা দিতে গেলে ১৪ জন নৌকার মাঝি ও কয়েকজন টং দোকানি আহত হন। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করেন চাঁদপুর শহরের ফরিদুল ইসলাম নামের এক পর্যটক।
তিনি বলেন, বিকেলে হঠাৎ লাঠি নিয়ে মিনি কক্সবাজারের নৌকার মাঝি ও দোকানদারদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর শুরু করা হয়। কিন্তু এ সময় সেখানে পুলিশি কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আগত অন্য পর্যটক ও দোকানদাররা জঙ্গলে আশ্রয় নেন। এতে শত শত পর্যটক নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত ফারহান-৯ লঞ্চটি সে স্থান ত্যাগ করে।
নৌকা মাঝি-মাল্লা সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, ঢাকার সদরঘাট এলাকার কাউন্সিলরের ভাই মিতুর লোকজন এই চরে পিকনিক করতে আসেন। আমাদের দাবি ছিল লঞ্চ থেকে নৌকার মাধ্যমে ১০ টাকার বিনিময়ে যাত্রী নামানো হয়। কিন্তু তারা সেটি না করে আমাদের ওপর হামলা চালান এবং মারধর করেন। আমরা নৌকার মাঝিরা গরিব হওয়ায় কোনো মামলা মোকদ্দমা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে নৌকার মাঝিদের ডেকে আনি। কিন্তু তারা আমাদের জানান, এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার খরচ তারা দিয়ে গেছেন। এ কারণে কোনো অভিযোগ করেননি কেউ।
১৪ মার্চ, ২০২১।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুরে পর্যটকের হামলায় ১৪ মাঝি আহত
