চাঁদপুরে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

পুলিশ নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার কোন কোটা ফাকা রাখতে চাই না
……..পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

এস এম সোহেল
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করছিলে। সেজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আবারো যদি কোন কারণে দেশ ক্রান্তিকালে পড়ে তাহলে আপনাদের পরামর্শ নিয়ে তার মোকাবেলা করা হবে। আপনারা যদি কোন সমস্যায় পড়েন, তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা আপনাদের পাশে থেকে কিছুটা হলেও ঋণ শোধ করার চেষ্টা করবো।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ নিয়োগে আমরা মুক্তিযোদ্ধার কোন কোটা ফাকা রাখতে চাই না। আপনাদের সন্তান বা প্রজন্ম থাকে তাদের সর্বাত্মাক সহযোগিতা করা হবে। আমার অফিস ও বাসা সবসময় আপনাদের জন্য খোলা থাকবে। শুধু পরিচয় দিবেন পুলিশের সদস্য বা মুক্তিযোদ্ধা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াছির আরাফাতের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, স্বাধীনতার পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্যাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ্ত রায়।
মুক্তিযুদ্ধ ও পরিবারের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন সাবেক পুলিশ সুপার মো. মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীরপ্রতীকের ভাই ও বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির মাসদুল হকের ছোট ভাই আনিছুর রহমান, শাহরাস্তি থানার অবসরপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর মো. আমির হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানার কনস্টেবল জহিরুল হক ভূঁইয়া, মতলব থানার কনস্টেবল মো. তোফাজ্জল হোসেন, হাজীগঞ্জ থানায় কনস্টেবল মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, কোন কিছু পাওয়ার আশায় আমরা যুদ্ধ করিনি। দেশের পরিস্থিতি এরকম হয়েছিলো দেশকে রক্ষা করতে আমরা যুদ্ধ যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের নিয়ে আমাদের দেশ ও সন্তানরা আমাদের নিয়ে গর্ববোধ করে, এটাই আমাদের পাওয়া। আমাদের মধ্যে দেশ ও সংস্কৃতির চেতনা ছিলো। আমরা কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু এ জাতি কি পেলো, তা জানতে চাই জাতির কাছে।
জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ১,২৬২ জন গর্বিত পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছে। মহামারী করোনাকালীন ১০৬ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেন। নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ৬০ জন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাসহ মোট ৮০ পরিবারদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মানা প্রদান করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুল সালাম।

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩।