চাঁদপুরে বজ্রপাতে শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৪


এস এম সোহেল/ আহসান হাবীব সুমন
চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে বজ্রপাতে দুই শিশুসসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর দেড়টায় বৃষ্টির মধ্যে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই পলাশ বড়ুয়া হাসপাতালে গিয়ে লাশের পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন।
নিহতরা হলেন- কচুয়া উপজেলার সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের কাঠমিস্ত্রী সাইফুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩৫), বড় ছেলে সাব্বির (১৪), মেয়ে সামিয়া (১০) ও শাশুড়ি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কৈইলান গ্রামের অহিদা বেগম (৬৫)।
সাজ্জাত হোসেন রবিনসহ কয়েকজন যুবক জানান, গতকাল রোববার দুপুরে তারা চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। দুপুরে যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দ শুনে তারা বড় স্টেশন মোলহেড নদীর তীরবর্তী বড় একটি গাছের নিচে ধোঁয়া উড়তে দেখে তারা সেখানে এগিয়ে গিয়ে নিহতদের মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে দেখেন। পরে তারা বুঝতে পারেন তাদের শরীরে বজ্রপাত হয়েছে। বজ্রপাতে আহতদের তারা সেখান থেকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বজ্রপাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শত-শত মানুষ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভিড় জমায়। একই পরিবারের ৪ জনের লাশ দেখে অনেকেই শোকে কাতর হয়ে দুঃখ প্রকাশ করে।
ঘটনার সময় নিহতের সাথে থাকা আরেক মেয়ে শাহিদা বেগম জানান, তার মা ও বোনসহ ৮ জন দুপুরে ঘুরতে আসেন বড় স্টেশন মোলহেডে। হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তারা সবাই আহত হন।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে বজ্রপাতে আঘাতপ্রাপ্তদের হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে।
চাঁদপুর সদর থানার ওসি নাসিম উদ্দিন জানান, নিহতরা চাঁদপুরে ঘুরতে এসেছিল। দুপুরে বজ্রপাতে তারা আহত হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। পরবর্তী আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে। নিহত ৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই। নিহতদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেল ৫টায় নিহতের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ৩০ নগদ হাজার টাকাসহ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়।

০৭ অক্টোবর, ২০১৯।