চাঁদপুরে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পয়লা বৈশাখ পালিত

চাঁদপুরে বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখী র‌্যালিতে অংশ নেয়া ৬ষ্ঠ বারের মতো সেরা সংগঠন মোহন বাঁশি শিল্পী ও কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। -ইল্শেপাড়

এস এম সোহেল
সামাজিক অবক্ষয়কে পেছনে ফেলে নতুন ও মঙ্গল কামনায় নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো পয়লা বৈশাখ বর্ষবরণ উৎসব ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বৈশাখকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে দিবসের প্রথম প্রহরেই শুরু হয় কার্যক্রম। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল ৭টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব আয়োজনে আলোচনার মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ শুভ সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী।
পরে ৮টায় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ লাইনে পান্তা ভোজের আয়োজন করা হয়। সকাল সোয়া ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি কালারফুল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। র‌্যালিতে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে শহরের সকল সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, সাংষ্কৃতিক সংগঠন বর্ণিল সাঁজে সেঁজে অংশ গ্রহন করে। শোভাযাত্রাটি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে মূল আয়োজন স্থল চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে বৈশাখী আয়োজন মঞ্চে দিনব্যাপি বর্ষবরণ ও ২ দিনব্যাপি লোকজ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. মাজেদুর রহমান খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশ বিভাগ নিরাপত্তায় সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি ডোন সংযোজন করেছে। আমরা অত্যান্ত আনন্দিত এই সুন্দর ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলি। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বলতে চাই আমাদের সন্তান নুসরাতের মত যেন আর কোন মেয়েকে হারাতে না হয়। বাংলা ১৪২৫ বছরটি ভালোভাবে কাটিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহুর্তে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা আমাদের সকলকে মর্মাহত করেছে। নুসরাত হত্যার ঘাতকরা আটক হয়েছে। আইনের মাধ্যমে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এই প্রত্যাশা করছি।

চাঁদপুরে বর্ষবরণ উপলক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। -ইল্শেপাড়

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরকম একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন। সেই পরিবেশকে ধরে রাখা এবং আরো উন্নত করা এটাই হচ্ছে আমাদের সবার কাজ। আজকে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতীদের মাঝে কোন দ্বিধা ও সংকোচ নেই। অত্যন্ত আনন্দের সাথে এক ঝাঁক নৃত্য করছে। পুলিশ সুপার লোকজ মেলার পুরো এলাকাটি সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। সর্বশেষ প্রযুক্তি ডোন দিয়েও নিরাপত্তার আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা চাঁদপুর বলেই সম্ভব। চাঁদপুরবাসী ধন্য সবাই অত্যন্ত ভালো ভাবে কাজ করছে। সব জায়গায় মানুষ উৎসবে এবং আনন্দে থাকবে। এই জাতিকে নিয়ে আমরা গর্বিত। সবার মনেই রয়েছে দেশপ্রেম। এ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আজকে আমরা রঙিন পোষাক পড়ে বর্ষবরণের মাধ্যমে নিজেকে রাঙ্গিয়ে তুলেছি। আমরা চাই সুন্দর সুশৃঙ্খল একটি জাতি।
বিশিষ্ট কবি ও লেখক ডা. পীযূষ রায় বডুয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাজহমুদ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম পাটওয়ারী দুলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ল²ন চন্দ্র সূত্রধর, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা, গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাছ উদ্দিন, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলার সভাপতি তপন সরকার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরণসহ আরো অনেকে।
পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পারফরমেন্সের ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার দেন অতিথিবৃন্দ।
এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে একে একে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তিসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
এর পূর্বে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর সঙ্গীত নিকেতন বর্ষবরণে পয়লা বৈশাখে ভোর ৬টা ১ মিনিটে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রভাতী অনুষ্ঠান। শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ইতিহাস, ঐতিহ্য ভিত্তিক ডুকুমেন্টারী প্রদর্শন হয়েছে। দুপুরে হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
এছাড়াও শহরের সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিনোদনের স্থান বড় স্টেশন মোলহেডে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল মানুষের ভিড়।
এভাবেই বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ১৪২৬ নববর্ষের দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও বাঙালি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শুভ সকালে অনুষ্ঠিত হবে শুভ হালখাতা ও গদি সাঈদ। এদিন ব্যবসায়ীরা পুরানো খাতার হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে নতুন খাতায় ১৪২৬ বঙ্গাব্দের হিসেবের যাত্রা শুরু করবে। জড়িয়ে ধরবেন একে অপরকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে। কামনা করবেন নতুন বছর যেনো আনন্দঘন হয়ে উঠে সবার হৃদয়ে। এছাড়াও চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ পালন করেছে।