চাঁদপুরে রাসেল’স ভাইপার উপদ্রব প্রতিরোধে কর্মশালা

বিরক্ত না করলে সাপ দংশন করে না
….. জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

এস এম সোহেল
চাঁদপুরে রাসেল’স ভাইপার উপদ্রব প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে সাড়ে ১০টায় সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাপে কামড়ালে ওঝা বা বেদে-বেদেনীদের কাছে নয়া গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যান। উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে সর্পদংশনের বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা, সময়মত ও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ ও দ্রুত যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সর্পদংশনে মৃত্যুর হার বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম আছে। সব জায়গায় হাসপাতালগুলোয় অ্যান্টিভেনম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা সাপ দেখলেই ভয় পাই। সাপে কামড়ের চেয়ে হার্ট অ্যাটাকেই মানুষ বেশি মৃত্যুবরণ করে। সাপকে বিরক্ত না করলেই, সাপ কাউকে দংশন করবে না। কোন কারণে সাপ কাউকে দংশন করলে সাপটিকে না মেরে একটি ছবি তুলে রোগীকে নিকটতম স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে নিয়ে আসুন, ডাক্তার নির্ধারণ করবে সাপটি বিষধর, নাকি অন্য কিছু। সেই হিসেবে রোগীকে সেবা প্রদান করবে ডাক্তার।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রজেক্টরের মাধ্যমে রাসেল’স ভাইপার উপদ্রব প্রতিরোধে করণীয় বিষয়বস্তু তুলে ধরেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. নোমান হোসেন।
তিনি তার বক্তব্যে উপস্থাপন করেন- কাউকে সাপে দংশনকরণে আক্রান্ত স্থানের উপরে এবং নিচে গামচা, ওড়না ও ব্যান্ডিজের টেপ দিয়ে বেঁধে দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। রাসেল’স ভাইপারে কামড় দিলে ১০০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। দেরী হলে রোগীর মৃত্যুর হার বেড়ে যায়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন রাসেল’স ভাইপার সাপ কেন বেড়ে গেলো? তার কারণ হলো সাপকে খায় এরকম প্রাণি আমরা মেরে ফেলছি। যেমন ইদুর, গুইসাপ, শিয়াল, বেজি, চিল ও ঈগলসহ আরো অনেক প্রাণি। সাপের বিষ অনেক মূল্যবান জিনিস। সাপ সবসময় দংশন করলেই সে বিষ ঢেলে দিবে না। সাপ ৫০ শতাংশ কামড়ে বিষ ঢালে না। সাপ বেশিরভাগ শুকনো কামড় দেয়। সাপের দংশনে ডাক্তরের পরামর্শে অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন দিতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমদের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রিভার) শ্রীমা চাকমা, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, শাহরাস্তি পৌরসভার মেয়র হাজি আব্দুল লতিফ, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. মুকবুল হোসেন পাটওয়ারী, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার, ইব্রাহীমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ মো. কাশেম খান, এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না, গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সবুজ প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত জামিল সৈকত, চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম ভূঁইয়া, হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূর হোসেন পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএস তসলিম, মতলব উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানিক দর্জি, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হেলাল হোসেন মিয়াজী, মতলব পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মামুন চৌধুরী বুলবুল, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, তরপুরচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী, হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি মো. ছাত্তার রাঢ়ী, বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিক উল্লাহ পাটওয়ারী, মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, পাথৈর ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাস মোল্লা, উপাদী দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা, সুলতানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক, জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান, টামটা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

০৩ জুলাই, ২০২৪।