চাঁদপুরে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান

বস্তিবাসীদের বাঁধায় উচ্ছেদ বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে শহরের আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমীর পিছনের অংশে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিল কয়েক হাজার নদীভাংতি অসহায় লোকজন। যারা বহু বছর যাবত ধরে চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে শহরের আক্কাছ আলী বস্তি এলাকায় এসে ঠাঁই নেয়। এরা চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ^র, আলুরবাজার, ঈশানবালা এবং শরীয়তপুর জেলার তারাবুনিয়া ও বালার বাজারসহ বিভিন্ন চর এলাকায় বসবাস করতো। বিগত বছরের ভয়াবহ নদী ভাঙনের শিকার হয়ে পর্যায়ক্রমে হাজার-হাজার মানুষ তাদের ভিটে-মাটি হারিয়ে চাঁদপুর রেলওয়ের জায়গায় এসে আশ্রয় নেয়।
এদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, রেলওয়ের জায়গায় দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর যাবত অসহায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এসব মানুষ ছোট-বড় শতাধিক বসতভিটা রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ম্যানেজার শামস্ মোহাম্মদ তুষার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার নির্দেশে ও তাদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
সোমবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালীন দুপুরের পর স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে শত-শত বস্তিবাসী উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনের সামনে গিয়ে বাঁধা প্রদান করে প্রতিবাদ জানায়। পরে বাঁধার মুখে উচ্ছেদ বন্ধ হয়ে যায়।
যেসব অবৈধ বসতঘর উচ্ছেদ করা হয় সেসব অসহায় বস্তিবাসীকে খোলা আকাশের নিচে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
জানা যায়, শহরের ৭নং ওয়ার্ডের কয়লাঘাট এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের এ অভিযানে ৩৩ বছর যাবত বসবাসরত নদী ভাঙনের শিকার কয়লাঘাট এলাকার রেলের বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় সেখানে গড়ে ওঠা সেমিপাকা, টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর ও অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পর সেখানকার বসবাসকারীরা খোলা আকাশের নিচে ও পথের মধ্যে জায়গা করে থাকার ব্যবস্থা করছেন।
উচ্ছেদকারীদের মধ্যে মোস্তফা, আমির হোসেন,গাজী ও আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের জায়গা-ঘর দেয়, আর আমাদের বসতঘর উচ্ছেদ করে। রোহিঙ্গাদের জায়গা দিতে পারে, আমাদের দিতে পারে না। চাঁদপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ৩নং কয়লাঘাট বস্তির বাসিন্দা লাভলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও কোন সুযোগ-সুবিধা পাই না। আমরা গরিব, নদী ভাঙনের কারণে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের রেলওয়ে থাকতে দিল না। এখন পলাপাইন নিয়া কোথায় যাবো?
রেলওলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল করিম বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে রেলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত বেষ্টনি দেয়াল তৈরি হচ্ছে। আমাদের অনেক কার্যক্রম হচ্ছে, এর মধ্যে এটিও একটি অংশ। আমরা আগেই সিডিউল অনুযায়ী মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বলেছি। তারা আমাদের কথা রেখেছে এবং আমাদের কাজে সহযোগিতা করেছে। এখন পরিস্কার জায়গা রয়েছে, আমাদের প্রয়োজনে দেয়াল আমরা করবো। এখানে শুধু নিরাপত্তা দেয়াল হবে, কোন স্থাপনা হবে না। স্টেশনের নিরপাত্তার জন্য এই বেষ্টনি দেয়াল করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শামস মো. তুষার, রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিসিও মো. আনছার আলী, ডিএন-১ আবদুল হানিফ মুকুল, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) কমান্ডার সত্যজিৎ দাম, আরএনবি সিআই ইয়াসিন, সিআই রেজওয়ান, এইএন মো. মোরছালিন, রেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী মজুমদার, উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মহসিন মল্লিক, কানুনগো লাকসাম কাউসার আহমেদ, চাঁদপুর মডেল থানার ওসি আব্দুর রশিদ, রেলওয়ে থানার ওসি মুরাদ উল্লাহ্ বাহার, বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হারুন, স্টেশন মাস্টার শোয়াইবুল শিকদার, এসএই মো. আব্দুর নূর প্রমুখ।

০৯ নভেম্বর, ২০২১।