চাঁদপুরে সহিংসতায় যুবক নিহত, আহত ৩০

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচনী ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে সহিংসতার সময় নেতাকর্তী ও নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আসা ভোটারসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৪ জনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে বলে হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। বর্তমানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে শহরের গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় গলায় ছুরিকাঘাতে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ মো. ইয়াছিন মোল্লা (১৮) নামে যুবক নিহত হয়েছে। ঘটনার পর পর পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই কেন্দ্রের বাইরে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াছিনকে তার বন্ধু রিয়াদ চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরে আলম প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়াছিন শহরের কোড়ালিয়া রোডের মোল্লাবাড়ির মো. হারুন মোল্লার ছেলে। হারুন মোল্লা গ্রামীণ ফোন সেন্টারের দারোয়ান ছিলো। তার ৩ ছেলের মধ্যে ইয়াছিন বড়।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, ওই যুবকের অবস্থা গুরুতর ছিলো। ছুরিকাঘাতে তার গলার রগ ও রক্তনালী কেটে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই ঢাকার নেয়ার পথে ইয়াছিনের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
ইয়াছিনের বাবা হারুন মোল্লা জানান, তার ছেলে নির্বাচনী কেন্দ্রের সামনে আসেন তখনই সহিংসতার মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে ছুরিকাঘাত করেন কোড়ালিয়া এলাকার মফিজ মিজির ছেলে মো. শাহেদ মিজি।
ইয়াছিনের মা আমেনা বেগম জানান, তার ছেলে ভোট দেয়ার জন্যই মূলত সেখানে গিয়েছেন।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন জানান, আমরা জানতে পেরেছি নিহত ইয়াছিন ও অভিযুক্ত শাহেদ উভয়ই ব্লাকবোর্ড মার্কার সমর্থক। তাদের মধ্যে সিনিয়র ও জুনিয়র নিয়ে তর্কের এক পর্যায় এই ঘটনা ঘটে। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ করা হলে আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। তার মরদেহ এখন চাঁদপুর মডেল থানায় রয়েছে।