চাঁদপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে সফরমালী গরুর বাজার

মো. আবরার হোসাইন
বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে চাঁদপুরের সফরমালী কোরবানির পশুর বাজার বসেছে। দেশীয় গরু হাটে বিক্রি করতে আসা খামারিরা বলছেন সরকারের গরু বিক্রির এ্যাপস্ তারা বুঝে না, তাই গরু বিক্রি করতে এসেছেন হাটে। ভিড় বেশি হওয়ায় বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তি ৩০ বছর যাবৎ ইজারাবিহীন এ হাটটি পরিচালনা করে আসছেন। এতে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, সফরমালী হাটটি’ই অবৈধ। পার্শ¦বর্তী জেলা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে খামারিরা সফরমালী হাটে আসায় এ বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি হয়ে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা, অর্থাৎ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরে অগ্রিম পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে খামারে পালিত মোটাতাজা গরু সফরমালী বাজারে তুলতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। খামারের এসব চোখ জুড়ানো পশু ক্রয় করতে চাঁদপুরের সফরমালী হাটে প্রতি সোমবার ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায় লক্ষ্যনীয়। তবে সফরমালীর এ পশুর হাটটি প্রায় তিন দশক পুরোনো হাট। এই হাটটিতে সারা বছর প্রতি সপ্তাহের সোমবার গরুর হাট বসে। গরুর হাট কমিটির পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ফ্রি মাস্ক দিচ্ছেন বলে জানা যায়। কিন্তু লোকজন ঠিকমত মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মানছেন না সামাজিক দূরুত্বও।
এ হাটে চাঁদপুর ছাড়াও পার্শ¦বর্তী জেলাগুলো থেকে বেপারীরা গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে আসে। তবে কোরবানিকে সামনে রেখে আরো জমে উঠেছে এ পশুর হাটটি। তবে এবার কোরবানির পশু আমদানি এবং দাম নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ক্রেতারা।
গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার এ্যাপস্ এর মাধ্যেমে গরু বিক্রি করবে। তারা এ্যাপস্ বুঝেন না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠে গরু বিক্রি করতে এসেছে। তবে গরুতে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
বাজার ব্যবস্থা কমিটির সদস্য আজাদ খান বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ফ্রি মাস্ক দেয়াসহ জীবাণুনাশক ট্যানেল বসিয়ে জীবাণুমুক্ত করে বাজার পরিচালনা করছে তারা। করোনাকালে এ ব্যবস্থা রেখেই হাট পরিচালনা করা হবে।
বাজার ব্যবস্থা কমিটির পরিচালক আব্দুল আজিজ খান দুদু বলেন, হাটের ইজারা দিয়ে ৯টি এতিমখানা, ৬৪ মসজিদের ইমামদের অর্ধেক বেতন ও দুঃস্থ অসহায়দের সেবায় খরচ করে থাকি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, আমাদের সদর উপজেলায় অনুমোদিত গরুর বাজার আছে ২৪টি। ইতোমধ্যে অস্থায়ীভাবে কোরবানি উপলক্ষে ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর সফরমালী বাজার আছে, যেটা প্রতি সোমবার বাজার বসে। এই বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যক্তি পর্যায়ে টোল আদায় করছে। গত ৩০ বছর যাবৎ সরকার কোন ইজারা দেয় নাই। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে হাজার-হাজার গরু আসে, বিক্রি হয়, টোল আদায় হয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে কোন টোল আদায়ের অধিকার নাই। প্রতিপক্ষ বলছে তাদের কি মামলা আছে। আমার জানামতে টোল আদায় সংক্রান্ত কোন মামলা নাই। মামলা থাকলে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। আমি মনে করি কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সময়ে কোন টোল আদায়ের কোন অধিকার সে রাখে না। আমি মনে করি কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এই হাটটি যেনো না বসে। একে তো করোনা ভীতি, দ্বিতীয়ত অবৈধ বাজারে এতগুলো গরু বেচা-কেনা হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা দরকার।
২৩ জুলাই, ২০২০।