ভাঙনে দিশেহারা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দারা

স্টাফ রিপোর্টার
ভারত থেকে নেমে আসা তীব্র পানির চাপে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল। তীব্র ঘূর্ণি স্রোতের প্রভাবে অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁদপুর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। ভিটে-বাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবে, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের এখন দিন কাটছে।
ক’দিনে প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে আরো কয়েকশ’ পরিবারের শেষ সম্বল বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে চলতি বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি পদ্মা-মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। বাদ পড়েনি ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ছোট ছোট বাজার।
এদিকে চারপাশে নদী গ্রাস করলেও এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে তিন তলাবিশিষ্ট নবনির্মিত রাজরাজেশ্বর ওমর আল হাই স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার। তবে যেকোনো সময়ে সেটিও বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চরাঞ্চলবাসী। ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি মাত্র এক মাস আগে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছিলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে চাঁদপুর শহরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় দুর্গম চরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্রমত্তা পদ্মার ভয়াল থাবায় বিলীন হতে চলেছে। ভারত থেকে নেমে আসা তীব্র পানির চাপ বঙ্গোপসাগরের দিকে নামতে গিয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে পদ্মা নদীর চাঁদপুর অংশ।
এতে নদীপাড়ের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের মান্দের বাজার, ঢালিকান্দি, রাজারচর, মজিদ কান্দি, লগ্গিমারাসহ আরো কয়েকটি চর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে।
ভিটেমাটি হারিয়ে মজিদ কান্দি এলাকার জেলে রহমান মিজি, কাজল গাজী, খালেক বকাউলসহ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, নদীতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপাতত কোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেব। কিন্তু পরে কোথাও যাব কি করব তা বলতে পারছি না। তারা আক্ষেপ করে বলেন, আর কোনদিন পিত্রভিটায় ফেরা হবে কিনা জানি না।
রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী জানান, প্রতিবছর বর্ষায় চরাঞ্চলে নদী ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবারের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বসতবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সহায়-সম্বল হারানো ওইসব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রশাসনসহ বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, প্রতিবছরই চরাঞ্চলে কমবেশি নদী ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবারের ভাঙনে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কিছু করা যায় কিনা তা দেখা হবে। তবে চরাঞ্চলে ভবিষ্যতে বহুতল ভবন না করে ভাসমান বা টিনশেড স্থাপনা করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা হবে বলে তিনি জানান।
২৩ জুলাই, ২০২০।