স্টাফ রিপোর্টার
মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা নানা অভিযোগ করেছেন চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার ওয়াদুদ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অস্বীকার করে উল্টো ওই মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে এমএ ওয়াদুদ বলেন, গত ২৩ নভেম্বর কতিপয় দুষ্কৃতকারী, সমাজবিরোধী, সরকারি অর্থ তসরুফকারী ব্যক্তিবর্গ সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি যুদ্ধকালীন এমএফ বাহিনীর কমান্ডার ও মেঘনা অঞ্চলের কে ফোর্সের আঞ্চলিক অধিনায়ক ছিলাম। আমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করিনি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত এবং দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া আমি কারও জমি আত্মসাৎ করিনি। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদও স্বচ্ছতার সঙ্গে চলছে। এখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অসত্য।
তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই কুদ্দুস কখনো ফ্রিডম পার্টির সদস্য ছিলাম না। বরং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকার কারণে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির শাসনামলে আমরা নানাভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তিনি অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম রব জাতীয় পার্টির আমলে জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ তলা বাড়ি আর্থিকভাবে তৃতীয়পক্ষের কাছে বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান।
এম এ ওয়াদুদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে তারা কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং তারা সন্ত্রাস, ডাকাতি, খুন, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটওয়ারী সম্পত্তির লোভে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এমনকি আপন ভাই মুক্তিযোদ্ধা নান্নু হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন। আর এসএম আব্দুর রশিদ নিম্ন পর্যায়ের ব্যাংকের কর্মচারী থাকা অবস্থায় অবৈধ অস্ত্র সহকারে গ্রেফতার হয়। এ তথ্য গোপন করে পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি আমলে বিশেষ কোটায় বিসিএস কর্মকর্তা পদে চাকরি লাভ করেন। চাকরিকালে সাভারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে আর্থিক লাভবান হয়ে ওই চেয়ারম্যানের শ্রমিকদের উপর গুলি চালিয়ে একজন শ্রমিককে হত্যা করেন। যে কারণে তাকে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। চাকরিজীবনে তিনি দুর্নীতি লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ কোটি কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। দেশেও নামে-বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেন।
এছাড়া মিয়া জাহাঙ্গীর ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও নিরীহ মানুষের জমিজমা দখল করেন।
কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের অপকর্মের বর্ণনা বলে শেষ করা যাবে না। আমি তাদের এসব মিথ্যা অভিযোগের কারণে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছি।
উল্লেখ্য, শনিবার চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডারবৃন্দ ব্যানারে চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। তারা অভিযোগ করেছেন, এম এ ওয়াদুদ একসময় ফ্রিডম পার্টির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বাড়ি, জমি দখলসহ ১০টিরও বেশি অভিযোগ আনা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধকালীন সময়ে ১৭ জন কমান্ডারসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদুল আলম রব।
তিনি জানান, এসব ঘটনায় ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের ঘটনায় মামলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় প্রতিবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধারা। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে ফ্রিডম পার্টি যোগদান করেন।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পাল্টা অভিযোগ
