চাঁদপুর থেকে লঞ্চ, ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ


স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। করোনাভাইরাস রোধে চাঁদপুর থেকে নৌ-পথে চলাচলকারী সব যাত্রবাহী লঞ্চ, ২টি ট্রেন ও বেশ কিছু বাস চলাচল গতকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুরে চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচাল চাঁদপুর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। লঞ্চ ঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক পরিদর্শক মাহতাব বিষয়টি লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
লঞ্চ মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, সিডিউল অনুযায়ী চাঁদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে রফরফ-৭, আল-বোরাক, ঈগল, বোগদাদিয়া-১৩, প্রিন্স অপ রাসেল-৩, রফরফ-২, ইমাম হাসান-২, বোগদাদীয়া-৯ দুপুর ১টার মধ্যে চাঁদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছেন। ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে মেঘনা রানী, সোনার তরী, সোনারতরী-২, ইমাম হাসান, মিতালী-৭, আবে জমজম-১, বোগদাদীয়া-৭ ও বোগদাদীয়া-৯।
তারা আরো জানান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান যাত্রীবাহী নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পন্যবাহী নৌ-যান জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমনরোধে জনসমাগম এড়ানোসহ গণপরিবহনে ভ্রমণ নিষেধ করেছে বিশেষজ্ঞরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা লঞ্চে যাত্রী সমাগম ঘটে থাকে বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করেছি।
অপরদিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জাফর উল্যাহ জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে করোনাভাইরাস থেকে ট্রেন যাত্রীরা যাতে রক্ষা পায় সেইজন্য আমরা চাঁদপুরের সাথে চলাচলকারী চাঁদপুর-কুমিল্লা কমিউটার ট্রেন ড্যেমু ও চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই এ দুটি ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়। শুধুমাত্র আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল বলবৎ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিজি ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মুন্সি জানান, চাঁদপুরের সাথে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সৌদিয়া পরিবহনের বাস পুরোপুরিভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা যাত্রী কম থাকার কারণে বাস চলাচাল বন্ধ রেখেছি। শুধুমাত্র চাঁদপুর-কুমিল্লা, ঢাকা-চাঁদপুর ও আনন্দ পরিবহনের কিছু বাস চলাচল করছে। এসব বাসও যাত্রীর উপর নির্ভর করে চলাচল বন্ধ করা হবে।