চাঁদপুর নৌ-থানায় তদবিরে এসে তরপুরচন্ডী ইউপি সদস্য রুহুল আমিন আটক

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনা নদীতে ইলিশ রক্ষায় চলছে অভয়াশ্রম। দিন-রাত সমানতালে ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন প্রশাসন। এতো অভিযানের পর কোনোভাবেই থামছে না ইলিশ নিধন। প্রতিদিন সমানতালে আটক হচ্ছে জেলে, জব্দ হচ্ছে মাছ, নৌকা ও জাল।
এদিকে চাঁদপুর নৌ-থানায় আটক জেলেদের নৌকা ছাড়াতে তদবির করতে এসে তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রুহুল আমিন সিকদার (৪০) আটক হয়েছেন। আটক হওয়ার ১০ ঘণ্টা পর ইউপি সদস্যকে মুচলেখায় ছেড়ে দেয় নৌ-পুলিশ।
নৌ থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকেই চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেনের নেতৃত্বে নৌ পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কয়েকটি জেলে নৌকা আটক করা হয়। এর মধ্যে একটি নৌকা তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিন সিকদারের। সে বেলা ১২টায় নৌ-থানাতে এসে তার নৌকাটি ছেড়ে দিতে বলে। সে নৌ থানাতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এসময় নৌ থানার ইনচার্জ কবির হোসেন তাকে আটক করে।
এদিকে আটক হওয়ার ১০ ঘণ্টা পর মুচলেখা রেখে ১ জন পৌর কাউন্সিলরের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তরপুরচন্ডী এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় ইলিশ রক্ষা অভিযানের শুরু থেকেই ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিন সিকদারের নেতৃত্বে একদল জেলে ইলিশ নিধন করে আসছে। প্রতিদিন ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আড়ত বসিয়ে তার নেতৃত্বে চলে মাছ বেচাকেনা। এ ধরনের অপকর্মকারী ব্যক্তি কিভাবে নৌ-থানাতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আটক হওয়ার পর আবার ছাড়া পেয়ে যায়। এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া রুহুল আমিন মেম্বার তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বাল্যবিবাহ, অর্থের বিনিময়ে সালিসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
০২ নভেম্বর, ২০২০।