ফরিদগঞ্জে দাদা কর্তৃক ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় দাদী আটক

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে তার নাতিনকে (৪ বছরের শিশু) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক নুরু মিয়া গাজী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ অভিযুক্তের স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে (৬৫) আটক করেছে। এ ব্যাপারে শিশুটির মা বাদী হয়ে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের গাজী বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ও আটক রোকেয়া বেগমকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করেছে।
ঘটনার শিকার শিশুটির মা জানান, গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির অন্যান্য শিশুদের সাথে তার ৪ বছরের শিশু সন্তানটি খেলা করছিল। এসময় তার দাদা নুরু মিয়া গাজী শিশুটিকে চকলেট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার লক্ষ্যে শিশুটিকে বিবস্ত্র করে ফেলে। এসময় অপর কয়েকটি শিশু তাকে ডাকতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখতে পায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির দাদী রোকেয়া বেগম উল্টো শিশুটিকে মারধর করে ও ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।
অপরদিকে, শিশুটির মা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে দুইদিন চিকিৎসা শেষে শনিবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় এসে হাজির হয়। তার কাছ থেকে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার বিস্তারিত শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করেন। এরপর পুলিশ অভিযানে নামে অভিযুক্ত ধর্ষক নুরু মিয়া গাজীকে আটক করতে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নুরু মিয়া গাজী পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে পুলিশ আটক করে। এরপর শিশুটির মা বাদী হয়ে নুরু মিয়া গাজী ও তার স্ত্রীকে আসামি করে রোববার সকালে মামলা দায়ের করে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. হাসিবুল আহসান চৌধুরীর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই শিশুর মেডিকেল রিপোর্ট করা হয়েছে। রিপোর্টে ধর্ষণ চেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর শিশুটিকে উদ্ধার করে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ও আটক রোকেয়া বেগমকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
০২ নভেম্বর, ২০২০।