ইলশেপাড় রিপোর্ট
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটের মাঠে ৩ জন প্রার্থী লড়াই করলেও জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল। রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক ও নৈতিক গুণাবলীর মাধ্যমে তিনি ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে
সমানতালে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতোমধ্যে অ্যাড. জুয়েল রাজনীতি ও ভোটের মাঠে যে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত রাখছেন, যা বর্তমান রাজনীতিতে অনেকটাই বিরল বলে মনে করেন সর্বসাধারণসহ বিশিষ্টজনরা।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের এমন জনপ্রিয়তার কারণ সম্পর্কে ভোটারসহ সর্বসাধারণ বলছেন, অহিংস মনোভাব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন পারস্পারিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতিকে। এছাড়া শিখিয়েছেন সহনশীলতার মাধ্যমে কিভাবে সহ-অবস্থান করতে হয়, রাজনীতিসহ ভোটের মাঠে।
এজন্য তিনি গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রার্থী আক্তার মাঝির নির্র্বাচনী অফিসে উপস্থিত হয়ে আক্তার মাঝির সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় আক্তার মাঝিও তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান। কুশল বিনিময়কালে বিএনপির প্রার্থী বলেন, চাঁদপুরে আমাদের যে সামাজিক অবস্থান রয়েছে, আমরা তা’ আজীবন লালন করে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাই। অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, নির্বাচনী মাঠে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আছি। ভোটাররাই বিবেচনা করবে কে যোগ্য। সামাজিকভাবে আমাদের চলন-বলন বহাল থাকবে। বিএনপি প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হলে আমাকে ছোট ভাই, আর আমি নির্বাচিত হলে আমার কাছে উনি বড় ভাই হিসেবেই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া এই প্রার্থী নিজেকে উদার আর মানবিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তারই নেতাকর্মীদের মাধ্যমে লাগানো নৌকা প্রতীকের ফেস্টুন নিজে উপস্থিত থেকে অপসারণের মাধ্যমে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বেশকিছু কর্মীর আহত হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ছুটে যান। পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনসহ একত্রে পদযাত্রা করেন রাজপথে।
মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আরেকটি বড় গল্প। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সংক্রমণ শুরু হলে তিনি চাঁদপুরে সর্বসাধারণের পাশে দাঁড়ান, মুক্তহস্তে। শুরুতেই তিনি করণীয় নির্দেশনাবলী ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত নয় সচেতন করেন। পাশাপাশি তিনি গড়ে তোলেন ‘কিউআরসি’ (কুইক রেসপন্স ডিউরিং ক্রাইসিস) নামের সংগঠন। কিউআরসি’র মাধ্যমে তিনি মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ, অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে যাতে বের হতে না হয় সেজন্য অনেক পরিবারের বাজার-সদাই, ঔষধ সরবরাহের জন্য হোম ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করেন- এই কিউআরসি মাধ্যমে।
উদীয়মান এই তরুণ রাজনৈতিক নেতার প্রতি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন দিন-দিন বৃদ্ধি পাওয়া ভোটের সমীকরণে রাজনৈতিক নেতার চেয়ে মানবিক নেতা হিসেবেই তিনি এখন এগিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই নির্বাচনী গণসংযোগসহ যে কোন কর্মকাণ্ডে নামলেই তার সাথে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে চায় তার কথা।
ফলে আগামি ১০ অক্টোবর ভোটের সমীকরণে ভোট যুদ্ধ নৌকা, ধানের শীষ ও হাতপাখা প্রতীকের হলেও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন, তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে- বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
‘ঐতিহ্য, বাণ্যিজ্য ও পর্যটন নির্ভর নান্দনিক চাঁদপুর’ স্লোগানে চাঁদপুর পৌরসভার তরুণ মেয়র প্রার্থীর অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল পৌরসভাকে সাজাতে চান নান্দনিক রুপে। তিনি যেমন মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন তেমনি আধুনিক ঢংয়ে বিনির্মাণ করবেন চাঁদপুর। সাধারণ মানুষ সেই স্বপ্ন বা প্রত্যাশাই করছে তাঁর প্রতি। সে হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি চাঁদপুরকে দেশব্যাপী একটি আধুনিক ও মানসম্মত পৌরসভা হিসেবে স্থাপন করতে পারবেন বলে আপামর জনসাধারণসহ বিশিষ্ট পৌর নাগরিকরা মন্তব্য করেছেন।
৫ অক্টোবর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মেয়র প্রার্থী জুয়েল
