পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার মালেক ও রশিদ বাহিনীর দ্বারা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও নাজেহালের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানী ঢাকার সদরঘাট নয়, স্বয়ং চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লাল বাহিনীর দাপটে অসহায় যাত্রীরা। এমনকি গত ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে পুলিশ বাহিনীর এক সদস্যকে মালেক বাহিনী লাঞ্ছিত করছে। সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরালও হয়। এর আগেও এই মালেক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিউজ হলেও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রহস্যজনক কারণে নীরব থাকে। কোন ধরনের ব্যবস্থাও তাদের বিরুদ্ধে নেয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, এ লালবাহিনী হচ্ছে ঘাটের ইজারাদার বাহিনী। অর্থাৎ নৌ-পথে যাত্রীবাহী লঞ্চের মালামাল লোড আনলোডিং কাজটি বিআইডব্লিউটিএ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদারকে দেয়। ফলে এ প্রক্রিয়ায় কাজটি কেউ একবার পেলে সোনায় সোহাগা। তাঁকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় না। কারণ তিনি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত লাল শার্টের যে বাহিনী গড়ে তোলেন তাদের দ্বারা রাতারাতি হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। চাঁদপুর লঞ্চঘাট ইজারাদার আব্দুল মালেক বেপারীও এ ক্ষেত্র পিছিয়ে নেই। কারণ রুটি বিক্রেতা থেকে পালিত লাল বাহিনীর দ্বারা তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
বহু বছর যাবত তিনি এ ঘাটের ইজারাদার। ফলে তাঁর পালিত লাল বাহিনীর দাপুটে অত্যাচার চলে অত্যন্ত দাপটের সাথে।
চাঁদপুর লঞ্চঘাট হতে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানের লঞ্চ ছেড়ে যায় আবার ঘাট ধরে। এক কথায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথের ট্রানজিট পয়েন্ট চাঁদপুর। ফলে নৌ-পথে লঞ্চে চলাচলকারী যাত্রীরা চাঁদপুরের ইজারাদার মালেক ও রশিদের পালিত লাল বাহিনীর অত্যাচার ও লাঞ্ছিত হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করতেই হয়। এ থেকে নিস্তার পাওয়ার সৌভাগ্য হয়তো লাখে ২/১ জনের। আর যাঁরা তাদের এ মধুর শিকার হয়েছেন একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন স্বাদটা যে কতটা মধুর।
অনেক সময় ভুক্তভোগী দু’একজন সচেতন যাত্রী হয়তো লালবাহিনীর অসম্মানজনক আচরণ পেয়ে ইজারাদারের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইতে গিয়ে উল্টো আরো বেশি অসম্মানিত হওয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদপুর ঘাটের ইজারাদার আব্দুল মালেক বেপারী ও রশিদ বেপারীর লাল বাহিনীর দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে হয়রানি শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। কিন্তু প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হওয়ার অজস্র উদাহরণ রয়েছে।
অপরদিকে লালবাহিনীর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের সামনে বহু ঘটনার নজির থাকলেও অদৃশ্য কারণে তাঁরা থাকে নীরব। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে অহরহ ঘটনা ঘটলেও তাঁরা ও একই পন্থা অবলম্বন করে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা তাৎক্ষণিক নৌ পুলিশকে অভিযোগ দিয়েও পায়নি কোনো প্রতিকার।
খোদ সেই পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য, যিনি ডিএমপিতে কর্মরত তাঁর সাথে গত ২৩ ডিসেম্বর (বুধবার) বিকেলে লালবাহিনীর ঐক্যবদ্ধ ন্যাক্কারজনকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য সবাইকে অবাক করে তোলে। ঐ দৃশ্যটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিও অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে লালবাহিনীর তাণ্ডব চললে ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত চাঁদপুর নৌ-পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এক কথায় লালবাহিনীর অত্যাচারে লাঞ্ছিত যাত্রীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কখনো কোনো সহযোগিতা তাৎক্ষণিক পেয়েছে, এমন কোনো রেকর্ড আজো নেই। এভাবেই দিনের পর দিন চাঁদপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার আব্দুল মালেক বেপারী ও রশিদ বেপারীর পালিত লালবাহিনীর দ্বারা চাঁদপুর লঞ্চঘাট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা হয়রানি ও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ প্রতিনিয়ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় নৌপথে চলাচলকারী সচেতন যাত্রীরা এ লালবাহিনীর হাত থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে লঞ্চঘাট ইজারাদার আব্দুল মালেক বেপারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ঘাটের ডাক এনেছি, অতএব টাকা তুলতে হলে হলে ভালো-মন্দ আচরণ করতেই হয়। তাছাড়া বাঙালির সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠে না। তাই মাঝে মাঝে একটু আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়।
এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ-পুলিশের ওসি মো. জহিরুল ইসলামের বলেন, জনবল সংকট রয়েছে। এরমধ্যে দিয়েও চেষ্টার ত্রুটি করি না। ঐদিনের ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত। কিন্তু ঘটনার পর ইজারাদার মালেক বেপারী ও রশিদ বেপারী ভুক্তভোগী যাত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে সমস্যাটি সমাধান করেছেন।
২৭ ডিসেম্বর, ২০২০।
