চাঁদপুর লঞ্চঘাটে শৃঙ্খলা ফিরছে না

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে (লঞ্চ ঘাট) কোন শৃঙ্খলাই দৃশ্যমান নেই। টার্মিনালের ভেতরে আর বাইরে যেন সিএনজি আর অটোচালকদের এক ধরনের প্রতিযোগিতা। মাল তোলা কিংবা নামানোর জন্য হকারদের দৌরাত্ম্য তো পুরনো চিত্র আছেই। এমন পরিস্থিতি কেউ টার্মিনালে গেলে বলতেই পারবে না কর্তৃপক্ষ বলে কেউ আছে।
অথচ টার্মিনালের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়িটি। তবে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কে থাকবে দায়িত্বে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে আছে মৃদু টানাপোড়ন। বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ না জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখভাল করবেন- এ নিয়েই মূলত অভ্যন্তরীণ টানাপোড়ন। যার কারণে অভিযোগ আছে কেউ দেখছে না এমন বিশৃঙ্খলার বিষয়টি। এতে করে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছে নৌ-টার্মিনালটিতে।
যাত্রীদের অভিযোগ, রাত যত গভীর হয় ততই চালকদের উৎপাত বৃদ্ধি পায়। যে কোন লঞ্চ পন্টুনে ভিড়ার সাথে-সাথেই যাত্রীদের গায়ে ধরে টানাটানি শুরু করে দেয় চালকরা। এতে করে নারী যাত্রীরা শ্লীলতাহানীর শিকার হন। পাশাপাশি পুরুষ যাত্রীদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
যদিও বছর দু’য়েক আগে জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে শৃঙ্খলা দৃশ্যমান ছিলো। যাত্রীরা নিজেই পন্টুন থেকে টার্মিনালের বাইরে স্ট্যান্ড এসে উপজেলাভিত্তিক সিএনজিতে উঠতো সারিবদ্ধভাবে। ছিলো না কোন টানা-হেচড়া কিংবা শ্লীলতাহানীর মতো ঘটনা।
গত দুই বছর করোনার প্রকোপের কারণে প্রশাসনিক তদারকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘যেই লাউ সেই কদু’তে পরিণত হয় নৌ-টার্মিনালটি। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছে. অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের আরো দাবি, চাঁদপুর হয়ে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা যাতায়াত করায় প্রতিনিয়ত এ জেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে হারহামেশাই। যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

০৫ এপ্রিল, ২০২২।