শাহ্ আলম খান
কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। তার উপরে আবার রোজার মাস। পরিস্থিতি কী হবে কে জানে। তাই মাসের বাজার একসঙ্গে করে নিলাম। না কিনে উপায় নেই। সদর উপজেলার বাবুরহাট এলাকার বেশ ভিড়ের মধ্যে পণ্য কিনতে আসা সালাউদ্দিন সরকার এভাবেই বলছিলেন কথাগুলো।
একদিকে কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা, অন্যদিকে শুরু হচ্ছে রমজান। তাই সালাউদ্দিন সরকারের মতো বেশিরভাগ মানুষই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভিড় করছেন পাড়া-মহল্লার মুদির দোকানে। তাতে ভিড় বেড়েছে দোকানগুলোতে। এর মধ্যে নানা অজুহাতে বিভিন্ন দোকানে পণ্যের দাম বাড়িয়েও বিক্রি করতে দেখা গেছে। বুধবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক বিধিনিষেধের ঘোষণা করেছে সরকার। যদিও তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেতে কোনো বাধা থাকবে না। বাজার খোলা থাকবে। এরপরও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিত্যপণ্য কিনতে আসা ফাতেমা বেগম, রোকেয়া বেগম, হাসিনা আক্তার বলেন, লকডাউনের সময়সীমা বাড়লে চাল-ডাল, তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আরও কৃদ্ধি পেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য একটু বেশি করে কিনে রাখছেন তারা। আবার কেউ বলছেন, রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাখছেন তারা।
বাবুরহাট বাজারের পাশে সাদ্দাম বেপারী নামের এক বিক্রেতা বলেন, দু’দিন আগে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে এসেও লকডাউনের খবরে আবার আজ পাইকারী বাজার থেকে পণ্য এনেছেন। পণ্য নেয়ার জন্য ভাড়া করেছেন অটোরিকশা। ওই অটোরিকশা ভাড়া আগে ছিল ২শ’ ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা। আজ দিতে হয়েছে ৪শ’ টাকা।
এদিকে পাড়া-মহল্লার ওইসব দোকানে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। দেখা গেছে, একে অপরের গা-ঘেঁষে চলছে কেনাকাটা। মুদি দোকানের পাশাপাশি সবজি, ফল ও মাছ-মাংসের দোকানেও ভিড় বেশি। অনেকের মুখে মাস্কও নেই। মাস্ক না পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে একেকজন একেক অজুহাত দেখিয়েছেন।
পাল বাজারে বিভিন্ন দোকানে প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। যদিও পাল বাজারের আশেপাশে যেসব মুদি দোকান রয়েছে সেখানে প্রতি কেজি চিনির দাম ৮০ টাকা। একইভাবে ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, ডিমের দাম বেশি রাখা হয় এই দোকানে।
জানতে চাইলে দোকানি দেলু বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাকে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অল্প পুঁজির সীমিত মালে (পণ্য) কম দামে বিক্রি করার সুযোগ তার নেই। অল্প পণ্যের পরিবহন খরচ তুলনামূলক বেশি। শুধু ওই দোকানেই নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নানা অজুহাতে অলিগলির দোকানে রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বাড়াতে এ অজুহাতের সুযোগটা বেড়েছে। ওইসব এলাকায় অলিগলিতে সবজি বাজার থেকে শুরু করে মুদি দোকানে উপচেপড়া ভিড়। যে যেভাবে পারছেন, খাবার মজুদের চেষ্টা করে চলেছেন। তাই চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, মসলার পাশাপাশি মাছ-মাংসের দোকানে ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে দামও।
১৮ এপ্রিল, ২০২১।
