চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের লিকুইড অক্সিজেনের প্ল্যান্টটি ২/১ দিনের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। ইউনাইটেড ন্যাশন চিলড্রেন্স ইমার্জেন্সি ফান্ডের (ইউনিসেফ) অর্থায়নে ও সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহযোগিতায় এ প্লান্টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল করিম নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত রোগীসহ সাধারণ রোগীদের অক্সিজেন সঙ্কট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন জেলার কর্মরত চিকিৎসকরা।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও এবং করোনা ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, আগামি ৩ আগস্ট সংশ্লিষ্টরা অক্সিজেনের প্ল্যান্টটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন। এরপরই আমরা রোগীদের জন্য ঐ অক্সিজেন দিতে পারবো।
এদিকে চাঁদপুর জেলায় করোনার ব্যাপক উচ্চ সংক্রমণের কারণে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় গত একমাস ধরে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের ব্যাপক অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে চাহিদানুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ করতে হতো। এতে করে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। যা দ্রুত কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন জেলার কর্মরত চিকিৎসকরা।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল করিম জানান, করোনা ও উপসর্গে ভর্তিকৃত রোগীদের অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতেই আমরা লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টটি চালু করতে যাচ্ছি। প্ল্যান্টের চীফ টেকনিক্যাল অফিসার সোহরাব উদ্দিন জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ৩ আগস্ট থেকে আমরা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো। এ প্ল্যান্টটিতে দৈনিক ৬ হাজার লিটারের অক্সিজেন গ্যাস উৎপাদন হবে। যা অক্সিজেনে রূপান্তর হয়ে ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটার বলে নিশ্চিত করেন এই টেকনিক্যাল অফিসার।
প্ল্যান্টটির প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৩০টি জেলায় ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের ধারণ ক্ষমতার লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। যা এখন উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায়। এসব প্ল্যান্টগুলো ৬ হাজার লিটারের। যখন প্ল্যান্ট থেকে অক্সিজেনে রূপান্তর হবে, তখন তা ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারে গিয়ে দাঁড়াবে। এই প্ল্যান্টটি চালু হলে চাঁদপুরের চাহিদার অতিরিক্ত লিকুইড অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল করিম বলেন, অক্সিজেন প্ল্যান্টটি উৎপাদনে যাওয়ায় চাঁদপুরবাসীর চিকিৎসা সেবায় এক অনন্য সুখবর বয়ে আনলো। বর্তমানে আমরা কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরে চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন আনতে হয়ে ছিলো। তাতে রোগীসহ হাসপাতালের ভোগান্তি ও ব্যাপক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়ছে। এই লিকুইড প্ল্যান্টি চালুর মধ্যে দিয়ে চাঁদপুর জেলার বর্তমান চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি গড়ে ৪ মাসের অক্সিজেন মওজুদ রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া অন্য জেলায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে করে পার্শ্ববর্তী অন্য কোন জেলাও উপকার ভোগ করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই তত্ত্বাবধায়ক।
এদিকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির প্রথম ধাপ শুরু হলে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সঙ্কটটি প্রকট আকার ধারণ করে। তখন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি হাসপাতালটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্যে হাসপাতালটিতে প্রথমে ২৫ বেড, পরে ৩০ বেডের আইসোলোশন বিভাগে উন্নতি করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া করোনায় আক্রান্তদের শনাক্তকরণে প্রথমদিকে সময় লাগতো ৮ থেকে ১০ দিন। কারণ রিপোর্টগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে হতো। যার কারণে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো। ঐ পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে চাঁদপুরে স্থাপন করেন কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ একটি আরটিপিসিআর ল্যাব। এরপর আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত অক্সিজেন ও আইসিইউও বেডের প্রয়োজনীয় দেখা দিলে মন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দ্রুত ৩টি আইসিইউও বেড স্থাপনে ব্যবস্থাগ্রহণ করেন।
বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলমান অবস্থায় এ জেলায় আক্রান্তের হার ক্রমন্বয়ে ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া অক্সিজেন প্লান্ট স্থায়ীভাবে স্থাপনের মধ্যে দিয়ে এ জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে গেলো বলে জেলার কর্মরত চিকিৎকরা দাবি করছেন।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৫শ’ ১৫ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১শ’ ৬৬ জন।

৩১ জুলাই, ২০২১।