প্রতীক পাওয়ার পর প্রচারণায় ব্যস্ত ৫১ জন
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকরা। পোস্টার-ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে ইউনিয়নের হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লার অলিগলি ও চা-দোকান। প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। মিছিল, মিটিং, পথসভা, উঠান বৈঠকে গণসংযোগ চলছে সমান তালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নে। হাট-বাজার, চায়ের দোকানে চলছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে অটোরিকশা, ইজিবাইক বা রিকশায় মাইক বেঁধে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন কর্মী ও সমর্থকরা। দিচ্ছেন লিপলেট। আর প্রার্থীরা ঘুরছেন বাড়ি বাড়ি। করছেন ভোটারসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে কুশল বিনিময়, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি, চাচ্ছেন ভোট।
বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিয়ন, রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এ ভোটগ্রহণে জয়ের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে কেউ কেউ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে ভোটাররা প্রতিশ্রুতি চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতাকে যাচাই করে ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন।
কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সাথে। তারা জানান, প্রতিদিন প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ডাকে তাদের ঘুম ভাঙছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত কোন না কোন প্রার্থী, তাদের সাথে ভোট চাইতে আসছেন। তারাও প্রার্থীদের সামনে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরছেন। প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বকাউল ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। অপর ৫ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগের ২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
তারা হলেন- ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকের প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের প্রধানীয়া ও ‘টেলিফোন’ প্রতীকের প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য কেএম রাসেল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা। তারা হলেন, ‘ঘোড়া’ প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও ‘চশমা’ প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন ‘আনারস’ প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান কমল। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে এসে সক্রিয়ভাবে কোন দলের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন নি। তবে সমাজসেবক হিসাবে তিনি মানুষের পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে তিনি কথা দিয়েছেন।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম বকাউল দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। আমার সাংসদ একজন উন্নয়ন প্রিয় মানুষ। তাঁর হাত ধরেই হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমার ইউনিয়নেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নয়নসহ সরকারি যেসব কাজ ইউনিয়নের এসেছে, আমি সবটুকু কাজ শতভাগ করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে উন্নয়ন কাজ শতভাগেরও বেশি হয়েছে। বিনিময়ে আমি কারো কাছ থেকে এক টাকাও নেইনি। যেহেতু নতুন ইউনিয়ন, তাই আরো কিছু কাজ বাকি আছে। ধারাবাহিকতা থাকলে সেসব কাজও সমাপ্ত করতে পারবো। আশা ও বিশ^াস করি, ইউনিয়নবাসী আমাকে আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
কথা হয়, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ‘ঘোড়া’ প্রতীকের প্রার্থী মো. হেলাল উদ্দিনের সাথে। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, জনগণ আমার সাথে রয়েছে। তারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে আমি বিশ^াস রাখি। একই কথা বলেন, মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের প্রধানীয়া।
উল্লেখ্য, দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, তিনটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১২ জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামি ১৬ মার্চ দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভাটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ মে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
০৭ মার্চ, ২০২৩।
