ঢিলেঢালা চলছে ফরিদগঞ্জ কৃষি অফিস

৩৪ শূন্য পদ নিয়ে

আ. ছোবহান লিটন
চাঁদপুর জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে আয়তনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সর্ববৃহৎ। এই উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২৩১.৫৪ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে এই উপজেলার পরিধি। ১৩ হাজার ১শ’ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে এই উপজেলায়। উপজেলার বেশিরভাগ অংশ সিআইপি বেড়ি বাঁধের অভ্যন্তরে হওয়ায় ৮০ ভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে জনবল কম থাকার কারণে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না কৃষকরা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদে ৪৬টি পদ থাকলেও বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছেন ১৯ জন। তাই এই কমসংখ্যক জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার কৃষকদের দেখবাল করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষি জমির গুণগত মান তৈরীতে কৃষকরা সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ভালো ফলাফল পাচ্ছে না। উৎপাদনে লাভবান না হতে পেরে দিন দিন কৃষি কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে উপজেলার কৃষকরা।
এছাড়া সঠিক তদারকি না থাকায় কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত বসতবাড়ি নির্মাণে কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমশই কমে আসছে। একটি কৃষি প্রধান উপজেলায় কৃষি উৎপাদনে ব্যহত হলে ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৬২টি। এর মধ্যে ৩৪টি পদই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। জনবল শূন্য পদের মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত কৃষি অফিসার ১ জন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ২ জন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ২৭ জন, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ১ জন, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ১ জন ও নিরাপত্তা কর্মী ২ জন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, এই পদগুলো দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। জনবল কম থাকায় সঠিকভাবে কৃষকদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না। কারণ, ৬২ জনের কাজ ২৮ জনে করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। জনবল পরিপূর্ণ থাকলে উপজেলার কৃষকদের উন্নত সেবা দেয়া সম্ভব হতো। এতে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেতো।
৮ নভেম্বর, ২০২০।