মনিরুল ইসলাম মনির
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সঙ্গে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। এতে খরচ হবে ৫২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। পুরো অর্থই দেবে সরকার। গতবছরের ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন শেষে এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এটা একটা নতুন সড়ক। এটা হাইওয়ে নয়। এটাকে উন্নত করা হবে।
‘দাউদকান্দি-গোয়ালমারী-শ্রীরায়েরচর (কুমিল্লা)-মতলব উত্তর (ছেঙ্গারচর) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ নামে প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপিতে) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এ বিষয়ে মতামত হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সাথে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।
এ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো স্থাপনার ক্ষতিপূরণসহ ২৬ দশমিক ৯ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। সড়ক বাঁধে মাটির কাজ ৩ দশমিক ৭৭ লাখ ঘনমিটার। বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণসহ পুনর্নির্মাণ (৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে) ৯ কিলোমিটার। বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণসহ মজবুতীকরণ (৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে) ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ (৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে) ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার। সার্ফেসিং- ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্স (৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে) ২০ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার। পিসি গার্ডার ৩১ দশমিক ৫০ মিটারের একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। ২৮ মিটারের ৬টি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ নির্মাণ করা হবে। ৩ হাজার ২৭০ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ১ হাজার ৬৮০ মিটার ব্রিক রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৪ হাজার ৩০০ মিটার ব্রিক টো ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ। ২৪ হাজার ৫০ বর্গমিটার সিসি ব্লকসহ জিও টেক্সটাইল নির্মাণ করা হবে। ৩ হাজার ৩৯০ মিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ। ২ হাজার ১২০ মিটার সসার ড্রেন নির্মাণ। ২ হাজার ১৬১ দশমিক ২৫ মিটার সাব-গ্রেড ড্রেন নির্মাণ। ৭টি বাস-বে নির্মাণ। ইউটিলিটি সিফটিং, বৃক্ষ অপসারণ ও বৃক্ষরোপন, নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ, রোড মার্কিং, সাইন, সিগনাল, কিলোমিটার পোস্ট এবং কংক্রিট গাইড পোস্ট স্থাপন ইত্যাদি কাজ করা হবে।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রকল্পটি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা হলো ৩০০ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ, ৩৪০ কিলোমিটার চারলেন ব্যতীত সড়ক নির্মাণ, ২৫০০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন/পুনর্বাসন, ৭০০০ মিটার ফ্লাইওভার/ওভারপাস নির্মাণ, ১৪৮০০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ এবং ৬৮০০ মিটার সেতু/কালভার্ট পুনঃনির্মাণ করা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মোট ২২ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা উপর্যুক্ত লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া ঢাকা-দাউদকান্দি-মতলব-চাঁদপুরের মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগের সময় ও দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, নতুন সড়কটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ দ্রুততর হবে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে। দৃষ্টিনন্দন সড়কটি দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু মানুষ সেখানে যাচ্ছেন।
মিজানুর রহমান আরো বলেন, দাউদকান্দি-গোয়ালমারী-শ্রীরায়েরচর (কুমিল্লা)-মতলব উত্তর (ছেঙ্গারচর) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ নামে প্রকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। অনেক কম সময়ে ঢাকায় যেতে পারবেন। দৃষ্টিনন্দন সড়কটি নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, দাউদকান্দি-গোয়ালমারী-শ্রীরায়েরচর (কুমিল্লা)-মতলব উত্তর (ছেঙ্গারচর) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ নামে প্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। ইতোমধ্যে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। সহসাই বাস্তবায়ন শুরু হবে।
২৫ আগস্ট, ২০২১।
- Home
- চাঁদপুর
- মতলব উত্তর
- নতুন সড়কে ভাগ্য ফেরানোর আশা দেখছেন মতলববাসী
