নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত মাইনুদ্দিনকে ফরিদগঞ্জে দাফন

শোকাহত পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন

নবী নোমান
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মাইনুদ্দিন (১২) নামে ফরিদগঞ্জের অধিবাসী এক স্কুল ছাত্রেরও মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। নিহত ছাত্র মাইনুদ্দিন উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বিল্লাল মাস্টারের বাড়ির তরজিরান্তি গ্রামের মহসিন খানের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম সৃষ্টি হয়েছে।
শিশু মাইনুদ্দিন নারায়গঞ্জে তার গার্মেন্টস কর্মী মা ও সবজি ব্যবসায়ী বাবার সাথে থাকতো। গত শনিবার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার একটি পর রোববার দিবাগত রাতে গ্রামের বাড়ির গোরস্থানে মাইনুদ্দিনকে দাফন করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিশুটির বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দেন। একই সাথে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, তরজিরান্তি গ্রামের মহসিন খানের ছেলে মো. মাইনুদ্দিন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো। তার বাবা নারায়ণগঞ্জে কাঁচামালের ব্যবসায়ী ও মা গার্মেন্টস শ্রমিক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাইনুদ্দিন ছিল সবার ছোট। গত শুক্রবার এশার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে। নামাজ পড়ারত অবস্থায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাইনুদ্দিনসহ ৩৪ জন ভয়াবহ বিস্ফোরণের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা মাইনুদ্দিন গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি জানান, নিহত মাইনুদ্দিনের পরিবারকে সরকার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তনা দেয়ার জন্য আমরা সেখান যাই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পিআইও মিল্টন দস্তিদার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান।
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০।