চাঁদপুরে একক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি!

পৌর নির্বাচনে ধানের চাষি কে?

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে বিএনপি সমর্থিত একক মেয়র প্রার্থী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার ইন্তেকালে স্থগিত হওয়া পৌরসভার নির্বাচন আগামি ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে বিপুল জনপ্রিয় প্রার্থী মরহুম শফিকুর রহমানের বিকল্প মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন বিএনপিতে? এ নিয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। যোগ্যতাসম্পন্ন ও কর্মীবান্ধব প্রার্থীকে ভোটের মাঠে প্রার্থী করতে না পারলে অনেকটাই ইমেজ সঙ্কটে পরবে জেলা বিএনপি- বলে অভিমত দলটির নেতাকর্মীদের।
এদিকে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত করছে দলটি। সে লক্ষ্য মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি। দলীয় ফরম যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রিয় বিএনপির মাধ্যমে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুব আনোয়ার বাবলু স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামি ১২ সেপ্টেম্বর দলটি তাদের একক প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
এদিকে বেশ কয়েকজন চাঁদপুর জেলা বিএনপির নেতা প্রার্থী একক প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌঁড়-ঝাপ অব্যাহত রাখলেও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পছন্দের প্রার্থীই চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবে বলে দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে জেলা আহ্বায়ক যাকেই প্রার্থী করবেন তাকে হতে হবে নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় নেতা। যেমনটি তিনি করেছিলেন মরহুম সফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে।
দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা মরহুম সফিকুর রহমানকে নির্বাচনের ভোটের মাঠে একক প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের সমীকরণই পাল্টে দিয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। সাথে নিজেদের দলীয় বিভেদ দূরকরণসহ দলীয় ঐক্য তৈরি করতে সক্ষম হন জেলা বিএনপির এই নেতা। সে কারণেই সদ্যঘোষিত তফসিলের আলোকে দলীয় অভ্যন্তরীণ ঐক্যর বিষয়টি সামনে রেখেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন এ নেতা।
বর্তমানে বিএনপি থেকে মেয়র পদে লড়াই করার জন্য ৪ জন প্রার্থী স্থানীয় ও কেন্দ্রিয়ভাবে দৌঁড়-ঝাপ চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তারা হলেন- চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মো. মোশারফ হোসাইন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল।
নির্বাচনের দৌঁড়ে এই ৪ নেতার দৌঁড়-ঝাপ থাকলেও ভোটের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আছে কেবল একজনের। তিনি হলেন- চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি। তিনি ইতোপূর্বে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভোটের রাজনীতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হন। বিপরীতে গত দুই দশকে চাঁদপুর জেলা বিএনপির যে কোন নির্বাচনে প্রার্থী প্রদান ও নির্বাচনে ভোটের কৌশল সম্পর্কে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল।
বিপরীতে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মো. মোশারফ হোসাইন ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের নেই কোন নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার কমবেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে এই দুই নেতার। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর ভোটের রাজনীতি দুই রকম, বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এমন পরিস্থিতিতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল বলে দলটির তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে। বিপরীতে এক সময়ের জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এসএ সুলতান টিটুর পছন্দের ব্যক্তি মো. মোশারফ হোসাইন বর্তমানে চাঁদপুরের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত। এছাড়া সম্প্রতি করোনাকালে হাজি মোশারফ হোসাইনের বিভিন্ন দান-অনুদান প্রদানসহ অন্যান্য সামাজিক কাজেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। বিপরীতে শাহজালাল মিশন দীর্ঘদিন যাবত জনমানুষের কাছে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকায় ভোটের মাঠে অনেকটাই অপরিচিত। ছাত্রনেতা হিসেবে যতটুকু গ্রহণযোগ্যতা ছিলেন সে হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন পর আসন্ন পৌর নির্বাচনে তাকে বিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল। এই দুই নেতার গ্রহণযোগ্যতাই বিবেচিত হবে মরহুম শফিকুর রহমানের বিকল্প হিসেবেই। তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দুই নেতা কতটা খাপ খাইয়ে নিতে প্রস্তুত- সেটাই দেখতে চায় জেলা বিএনপিসহ তাদের সমর্থকরা।
এদিকে চাঁদপুর পৌর নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতি হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ইভিএম’র নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ও কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করতে কর্মীবান্ধব প্রার্থীর বিকল্প নেই বলে অভিমত জেলা বিএনপি নেতাদের। এজন্য কেবল অর্থ থাকলেই ভোটে জয়লাভ করা সম্ভব হবে না বলে দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মীদের দাবি।
এমন পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে ইল্শেপাড়কে জানান, ভোটের ফলাফল কি হবে তা অনেকটাই নিশ্চিত। কেবল গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধের লক্ষেই ভোটের রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। তবে চাঁদপুরে যেহেতু ব্যপক জনপ্রিয় বিএনপি, সে হিসেবে একক প্রার্থী প্রদানে দলটি দু’টি কৌশলে এগুচ্ছে।
প্রথমত পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় সিমপ্যাথী পাবে এমন প্রার্থীকেই দলীয় প্রার্থী দিবে দলটি। দ্বিতীয়ত নিজদের জনপ্রিয়তা ঘরে তোলার জন্য শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবে, কেবল এমন প্রার্থীকেই একক প্রার্থী ঘোষণা করবে দলটির নীতি নির্ধারকরা। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হয়তো একবারেই নবীন কিংবা অর্থ-বিত্তে এগিয়ে রয়েছে এমন প্রার্থীই পাবেন দলীয় টিকেট। এখন চূড়ান্ত মনোনয়নে ধানের শীষ কে পাচ্ছেন তা জানা যাবে আগামি ১২ সেপ্টেম্বরই।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন গত ২৯ মার্চ হওয়ার কথা ছিলো। বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমানের ইন্তেকালের কারণে গত ১৬ মার্চ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ঐ তফসিলে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল রয়েছেন ভোটের মাঠে।
নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামি ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সদ্য তফসিলে বলা হয়েছে, স্থগিত মেয়র, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করা হলো। শুধুমাত্র মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাবেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর।

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০।