নীলকমলে পারিবারিক কলহের জের ধরে ফসলি জমি বিনষ্ট

হাইমচর ব্যুরো
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ড চকিদার কান্দিতে পারিবারিক কলহের জের ধরে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও ফসলি জমি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় আড়ইশ’ শতাংশ ফসলি জমি বিনষ্ট হয়।
জানা যায়, হাইমচর উপজেলাধীন নীলকমল ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত হাবিব চকিদারের ছেলে আবুল হাসেম। আর মৃত রুস্তম পাটওয়ারীর ছেলে অভিযুক্ত আল আমিন। বৈবাহিক সূত্রে একে অপরের ভগ্নিপতি ও শ্যালক। দীর্ঘদিন ভগ্নিপতি আল আমিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিশেহারা আবুল হাসেমের বোন সানু বেগম। ভাই আবুল হাসেম প্রতিবাদ করলে তার উপরও চলে অমানবিক নির্যাতন। সর্বশেষ আবুল হাসেমকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে সে চাঁদপুর কোর্টে হাইমচর থানায় অভিযোগ করে আইনের আশ্রয় চায়। এ সংবাদ ভগ্নিপতি আল আমিন জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় আড়ইশ’ শতাংশ ফসলি জমিতে ঘাসের ঔষধ ছিটিয়ে বিনষ্ট করে দেয়। সর্বহারা আবুল হাসেম সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে দ্বিতীয়বার অভিযোগ করেন হাইমচর থানায়।
ভুক্তভোগী আবুল হাসেম জানান, আল আমিনের কাছে বোন বিয়ে দিয়ে সাংসারিক সমৃদ্ধিতে ৩টি গরু, বসতঘর নির্মাণ ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৩শ শতাংশ ফসলি জমি দেই। কিন্তু সে পান থেকে চুন খসলেই আমার বোনের উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। পরিশেষে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে গত তিনমাস আগে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর আমাদের ফসলি জমি পুড়িয়ে বিনষ্ট করে দেয়। তাই আমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. রাসেল হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আগামিকাল ১ জানুয়ারি হাইমচর থানা গোলঘরে বসে পারিবারিক কলহের বিষয়টি মিমাংসা হওয়ার কথা থাকা সত্বেও কে বা কারা ফসলি জমি পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল আমিন জানায়, আমি যা কিছু করেছি এগুলো করার কারণ স্থানীয়রা জানে। আবুল হাসেমসহ তার বোনকে হত্যার হুমকি, বিভিন্ন প্রকারের নির্যাতন ও ফসলি জমি বিনষ্টের ব্যপারে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। স্থানীয় মোস্তফা চৌকিদার ও সানু পেদার কাছে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
স্থানীয়দের দাবি ভুক্তভোগী আবুল হাসেমের পরিবারটি একটি নিরীহ পরিবার। অভিযুক্ত আল আমিন নামের ছেলেটি সানু ও তার পারিবারিক জীবনে বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিশেষে পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে এ ফসলি জমি বিনষ্ট করে সে। এর সঠিক বিচার হোক, এটাই আমরা কমনা করছি।
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০।