মো. আবরার হোসাইন
প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাঁদপুর মেঘনা নদীতে দেদারছে চলছে রেনু পোণা নিধন। এতে করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে এখন আর গুটিকয়েক প্রজাতির মাছের দেখা মিললেও আগের মতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন আর বাজারে উঠছে না। তার কারণ সচেতন মহল মনে করেন, শীতের মৌসুম আসলে কিছু অসাধু লোকজন তাদের পেশীশক্তি ব্যবহার করে নদীতে থাকা সব ধরনের রেনু পোণা নিধনে লিপ্ত থাকে। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলে না।
জেলেদের সাথে কথা বললে তারা জানান, শীতকাল আসলে আমাদের দাদন দিয়ে চাঁদপুরে নিয়ে আসে মাছ ধরতে। নদীতে আমরা ৩ প্রকারের জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরি। তা হচ্ছে- বাতা, সাটিং ও গাদ জাল। এজালে বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোণা উঠে। ঐ রেনু পোণা নদীর তীরে আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। আর আড়ৎদাররা সে মাছ ডাকে বিক্রি করে উভয় পক্ষ থেকে দালালি পায়।
আরো জানা যায়, এসব পোণা নিধনের সাথে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী লোকজন। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে তারা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরাণবাজার ফাঁড়ির পুলিশ যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। কোস্টগার্ড নদীতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা রেনু পোণার উপর কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। দালালরা শীতের সিজন আসলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলেদের দাদন দিয়ে নিয়ে আসে। দিন ও রাতে ২ বার তারা নদীতে গিয়ে মাছ ধরে পুরাণবাজার হরিসভা মন্দিরের পেছনে নদীর তীরে ও মাস্টার বাড়ি ঘাট দিয়ে এ সব মাছ বিক্রি হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা হচ্ছে। দালালরা হচ্ছে- লিলু হাওলাদার, শাদাত পাটোয়ারী, মহসিন হাওলাদার, তাহের শেখ, জলিল মিজি, বিল্লাল শেখ, ইউছুব মিজি, কাসিম ছৈয়াল, ফজল মিজি, কালু হাওলাদার, সেলিম শেখ, লিটন গাজী, সুমন মিজি, কালা স্বপন, রিটু চৌধুরী, হাসেম মোল্লাসহ নাম জানা আরো অনেকে।
এসব দালালদের রেনু পোণা নিধনের সংবাদ স্থানীয় প্রত্রিকায় প্রকাশ করলে তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন প্রত্রিকার প্রতিনিধিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং বলে আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ব্যাবসা চালাচ্ছি। তাই প্রশাসন আমাদের কিছু বলেও না কোস্টগার্ড অভিযান দেয় না। নদীতে মাছ ধরতে আমাদের কোন বাধা নেই।
চাঁদপুর কোস্টগার্ডের সাথে কথা বললে তারা জানান, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। মাছ হচ্ছে দেশের সম্পাদ। এ সম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ড সর্বদা সজাগ। আমরা দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। কাউকে ছাড় দেব না।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেল, এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা এখন আর বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখি না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে মাছ কি জিনিস আমাদের ছবিতে দেখতে হবে। তারা আরো বলেন পুরাণবাজার ফাঁড়ি নাকের ডগায় এ রেনু নিধন হচ্ছে। তারা কাউকে কিছু বলে না। আমাদের মনে হয় তারা অসাধু দাদনদারদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে দেখেও চোখ বন্ধ করে রয়েছে।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- পুরাণবাজারে দেদারছে চলছে রেনু পোণা নিধন
