স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশের উদারতায়, পুলিশ যে দায়িত্ব পরায়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন তার প্রমাণ মিলেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশের মাধ্যমে। চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ টহলরত অবস্থায় শহর থেকে পরিচয়হীন মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর উদ্ধার করে তার পরিচয় পাওয়ার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার পরিবারের সন্ধান করতে পেরে পরিবারের কাছে তাকে পৌঁছে দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন।
নিখোঁজ হওয়া সুমিকে পুলিশ পেয়ে তার অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয়ার পর এলাকাবাসী মন্তব্য করে বলেন, আমাদের দেশের পুলিশ কি এতোই ভাল যে একজন নিখোঁজ হওয়া মেয়েকে পেয়ে তার বাড়িতে তাদের অর্থ ব্যয় করে পৌঁছে দিল। এ ঘটনা শুনে এলাকাবাসী অবাক হয়েছে বলে তারা জানান।
শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা থেকে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে টহলরত অবস্থায় মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীকে পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে আসে। যুবতী তার নাম সাথী বলে জানান এবং ফ্যাল-ফ্যালিয়ে হাসতে থাকেন। সে হাসে আর বলে বাড়ি রামগঞ্জ। পিতা-মাতার নাম বলতে পারে না। পিতা-মাতা ছোট বেলায় মারা গেছে। সে হাসে আর বলে তাকে একজন পালক লালন-পালন করেছে। তার নাম সাথী নয়, তার প্রকৃত নাম সুমী। চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফজলুর রহমান ও নারী পুলিশ সদস্য লাইলী বেগম গৃহবধূ সুমীর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার অভিভাবকদের কাছে গত রোববার রাত সাড়ে ৭টায় সুমীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুর রহমান জানান, আমাদের মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিলের নির্দেশে চাঁদপুর শহর থেকে উদ্ধার হওয়া মানসিক প্রতিবন্ধী গৃহবধূ সুমী (২১) কে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দেনায়েতপুর গ্রামে গিয়ে তার ননদ মরিয়ম জাহান রত্নার কাছে হস্তান্তর করে। সুমির পরিবার তাকে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছেন- এমন আনন্দিত হন। সুমি নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবার হতাশার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। তার প্রবাসী স্বামী সুজনের কাছে পরিবার কি জবাব দিবে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, আমাদের মডেল থানার পুলিশ প্রতিবন্ধী নারীকে চাঁদপুর শহর থেকে উদ্ধার করার পর থানা হেফাজতে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ-খবর নিয়ে তার ঠিকানা কিছুটা নিশ্চিত হয়ে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় মডেল থানার এসআই মো. ফজলুর রহমান তাকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ এলাকায় সুমীর স্বামীর বড় বোন মরিয়ম জাহান রত্নার কাছে পৌঁছে দেন। তারা নিখোঁজ সুমীকে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
- Home
- প্রথম পাতা
- পুলিশের উদারতায় চাঁদপুরে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতী ১০ দিন পর পরিবারের কাছে
Post navigation
