ফরিদগঞ্জের পাটওয়ারী বাজার হিমাচল সমিতির ক্যাশিয়ারের প্রতারণায় নিঃস্ব কাঠ ব্যবসায়ী

আবু তালেব সরদার
ফরিদগঞ্জ পাটওয়ারী বাজার হিমাচল সমিতির ক্যাশিয়ার বাইজিদ আহম্মেদ সুমনের প্রতারণার শিকার এক কাঠ ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
সরজমিনে পাটওয়ারী বাজার গিয়ে জানা যায়, হিমাচল সমিতির মালিক মজিবুল হক মানিকের একমাত্র ছেলে বাইজিদ আহম্মেদ সুমন হিমাচল সমিতিতে দীর্ঘবছর ধরে ক্যশিয়ার হিসেবে চাকরিরত ছিল। এমতাবস্থায় স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এক ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন হিমাচল সমিতি থেকে লোন উত্তোলনের জন্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কাঠ ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন তার জামাতার নগদ টাকার প্রয়োজনে সমিতি থেকে নিজের নামে ৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে সমিতির নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ মাইনুদ্দিনের নামে ৫ লাখ টাকা লোন পাস করে এবং সমিতির ক্যাশিয়ার বাইজিদ কাঠ ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিনের নামে ৫ লাখ টাকা লোন উত্তোলন করে। উত্তোলনের পর মাইনুদ্দিন তার জামাতাকে ফোন দিয়ে বলে, সমিতি থেকে টাকা নেয়ার জন্য। এমতাবস্থায় জামাতা তার শশুর মাইনুদ্দিনকে বলে, আপাতত আমার লোনের টাকা লাগবে না। আপনি সমিতির টাকা সমিতিতে জমা দেন, আমার টাকার সমস্যা শেষ হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই মাইনুদ্দিন সমিতি অফিসে গিয়ে উত্তোলনকৃত টাকা লাগবে না বলে ক্যাশিয়ার বাইজিদকে জানান এবং সমিতির টাকা সমিতিতে জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় সমিতির ক্যাশিয়ার বাইজিদ আহম্মেদ সমুন বলে, ভাই টাকাটা আমি নেবো এবং ৫ লাখ টাকার প্রতি মাসের কিস্তি আমি চালিয়ে যাবো। মাইনুদ্দিন বিশ্বাস করে সমিতির ক্যাশিয়ার বাইজিদকে একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দিয়ে দেন। পরবর্তীতে ক্যাশিয়ার বাইজিদ আহম্মেদ সুমন ঐ উত্তোলনকৃত টাকার মোট ৩ কিস্তি পরিশোধ করে। ক্যাশিয়ার সমুন হঠাৎ গত ৩০ জুন সমিতি থেকে ছুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে সমিতির কর্তৃপক্ষ কাঠ ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিনকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অসহায় মাইনুদ্দিন সমিতির কর্তৃপক্ষের হুমকিতে ৩ কিস্তি পরিশোধ করে।
এ ব্যাপারে বাইজিদ আহম্মেদ সমুনের বাবা ও সমিতির মালিক মজিবুল হক মানিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার ছেলে টাকা নিয়েছে তা সত্য। টাকা নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
২৪ ডিসেম্বর, ২০২০।