নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে আসমা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামের শাহজী বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সুরতহাল সম্পন্ন শেষে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে। আসমা আক্তার ঐ গ্রামের প্রবাসি জিল্লুর রহমানের মেয়ে ও এক সন্তানের জননী।
গত মঙ্গলবার রাতে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের লোকজন জানালেও আত্মহত্যার কোনো কারণ জানাতে পারেনি। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশিরা বলছেন আসমার স্বামীর সাথে তার ছোট বোন লামিয়ার অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। ওই রাতে আসমার স্বামী সাইমুন মোল্লা সে বাড়িতেই ছিলো। সকালে পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে সে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
আসমা আক্তারের মা শামছুন্নাহার জানান, প্রায় তিন বছর আগে আসমা ও পাশ^বর্তী খাজুরিয়া গ্রামের আঃ মান্ননের ছেলে সেনিটারি মিস্ত্রি সাইমুন মোল্লার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়ানুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে আরিয়ান নামে ১০ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে সে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নাতী আরিয়ানের কান্নার শব্দ শুনে আসমাকে ডাকাডাকি করতে থাকি। তার সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে পাই বসত ঘরের সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে ডাক-চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। এরই একপর্যায়ে সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ বুধবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, পরিবারের লোকজন আত্মহত্যার কোনো কারণ জানাতে না পারলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশি লোকজন জানান, আসমার স্বামীর সাথে তার ছোট বোন ১০ম শ্রেণিতে পড়–য়া লামিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার স্বামী সাইমুন মোল্লা ও ছোট বোন লামিয়াকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর আসমা রাগে-ক্ষোভে রাতের খাবার না খেয়েই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে তার শয়নকক্ষে চলে যায়। ঐ কারণেই রাতে সে আত্মহত্যা করে।
প্রতিবেশিরা আরো জানান, আসমার স্বামীর সাথে তার ছোট বোন লামিয়ার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকমাস যাবতই তাদের পরিবারে অসন্তোষ বিরাজ করে আসছে। এ কারণে ইতোপূর্বেও একবার সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ঐ রাতে আসমার স্বামী ঐ বাড়িতেই ছিলো। সকালে পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে সে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
