ফরিদগঞ্জে চোর আতংকে এলাকাবাসী

আ. ছোবহান লিটন
ফরিদগঞ্জে চোরের উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলছে। চোর আতংকে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও ছিচকে চোর আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। যদিও সন্দেহভাজন কয়েক জনকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আটকও করেছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি।
গত ৬ নভেম্বর উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের মিঠুন চন্দ্র দাসের বাড়ি থেকে টিভিএস কোম্পানির ১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি ডায়রী করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগের দিন ৫ নভেম্বর রুপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর এলাকার ক্বারী বাড়ি থেকে মো. সোহেল কারীর লাল রংয়ের একটি ডিসকভার ১০০ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়। উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পশ্চিম ভাওয়াল গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি থেকে একটি এফ-জেট মোটরসাইকেল চুরি হয়। ৩০ অক্টোবর রুপসা উত্তর ইউনিয়ের রুপসা বাজার থেকে একটি সাদা রংয়ের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল চুরি হয়। যার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থাকলেও চোর সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে ৮ নভেম্বর সকালে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে সাউন্ড মেশিন, ইকু মেশিন ও হাউজার মেশিন চুরি হয় বলে উক্ত মসজিদ কমিটির লোকজন জানান। এই তিনটি মেশিনে মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রায়ই ছিচকে চোর রাতের আঁধারে সিঁদ কেটে বা বিভিন্ন উপায়ে চুরির ঘটনা নিত্যদিনের।
চুরির বিষয়ে উপজেলার সচেতন মহল দাবি করছেন- মাদকের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে চুরির ঘটনা।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে আমরা কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার খবর পেয়েছি। চোর চক্র সনাক্ত করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোপূর্বে চোর সন্দেহে কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এলাকার লোকজন সচেতন হলে এই চুরি কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে।

১৮ নভেম্বর, ২০২১।