ফরিদগঞ্জে ত্রাণের দেড় টন চাল দোকানে

হায়রে এমপির প্রতিনিধি!

স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের ত্রাণের ১.৫ টন চাল স্থানীয় এমপির সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদের দোকানে নিয়ে প্যাকেটজাত করার অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে গেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি গত ২৩ এপ্রিল সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন হোসেনের অনুকূলে ২.৬ মেট্টিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেন। মহসিন হোসেন সে মোতাবেক ২৬০০ কেজি চাল উঠিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে রাখেন। সেখান থেকে পারভেজ আহমেদ স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি হিসেবে ১৫০০ কেজি (৫০ বস্তা) চাল নিজে টোরা মুন্সিরহাট বাজারে বশিরের টিনের দোকানে নিয়ে বস্তা পাল্টিয়ে ৫/৭ কেজি করে প্যাকেট করা শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে এসি ল্যান্ডকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরা মুন্সিরহাট বাজারে মাছ বাজারের ভেতরে বশিরের টিনের দোকানে গিয়ে দেখেন বেশিরভাগ চাল প্যাকেট করা হয়েছে, কয়েকটি বস্তা বাকি আছে। তিনি ও এসি ল্যান্ড তাৎক্ষণিক পারভেজ আহমেদকে শাসিয়ে তাকে তাদের গাড়িতে তোলেন উপজেলায় নিয়ে আসার জন্যে। কিন্তু এরই মধ্যে ইউএনওর মোবাইলে কোনো এক স্থান থেকে ফোন আসতে থাকে। এদিকে পারভেজ আহমেদ কান ধরে ক্ষমা চায়, এমন কাজ আর করবে না। পারভেজ ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবে না মৌখিক ক্ষমা চাওয়ায় তখন তাকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে ইউএনও ও এসি ল্যান্ড চলে আসেন।
জানা যায়, পারভেজ আহমেদ এর আগেও তিনবার ৪ টন চাল ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এনে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় জনগণের বক্তব্য হচ্ছে, পারভেজ তো চেয়ারম্যান-মেম্বার কিছুই না। তার দোকানে বা তার হেফাজতে তো সরকারি চাল যেতে পারে না।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি ও এসি ল্যান্ডের সাথে টোরা মুন্সিরহাট বাজারে উপস্থিত ছিলেন সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন হোসেন, হানিফ মেম্বার, কামাল মেম্বার, আয়েশা মেম্বার, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমির হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা শামিম আহমেদসহ স্থানীয় লোকজন।
এদিকে ইউএনও টোরা মুন্সিরহাট বাজারে চাল ধরতে এসেছেন এমন খবর চারদিকে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম শুকু পাটওয়ারী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, কয়েকদিন আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মোহন মোল্লা ও সিনিয়র নেতা জসিম উদ্দিন মিন্টু, আমির হোসেন খোকাসহ নেতৃবৃন্দ ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মহসিন হোসেনের সাথে পারভেজ আহমেদসহ বৈঠক করি, কীভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে সুন্দরভাবে এ ত্রাণের চাল বন্টন করা যায় সেজন্যে। আমরা চেয়ারম্যানসহ সবাই একমত হই যে, সবাই নিজ নিজ এলাকার সব গরিব মানুষের নামের তালিকা তৈরি করে সে অনুাযায়ী সবাইকে চাল দেয়ার ব্যবস্থা করবো। কিন্তু পারভেজ আহমেদ আমাদের কারো কথা মানে না। তার কথা হলো সে এমপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি হিসেবে নিজে শতকরা ৬০ ভাগ মাল (চাল) তার তালিকা অনুযায়ী সে নিজের মতো করে বিলি করবে। তখন সেখানে হট্টোগোল হয়ে বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়। সে এ পর্যন্ত ৩ বার চাল নিয়েছে নিজে বিলি করার জন্যে। এতে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হয়েছে। তাই বিষয়টি আমরা ইউএনওকে ফোনে জানিয়েছি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও তাকে বলা হয়। তিনি আজ (শুক্রবার) টোরা মুন্সিরহাট বাজারে বশিরের টিনের দোকানে গিয়ে হাতেনাতে চালের ব্যাগ পেয়েছে বলে আমরা মেম্বারদের কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মানুষের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি আমরা। পারভেজ আহমেদ চাল নেয়ার পর যে চাল থাকে তা থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা কয়েকটি প্যাকেট করে মাত্র পায়। বাকিগুলো চেয়ারম্যান নিজের লোকদের দেখে দেখে দেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে ইউএনও শিউলি হরির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি সেখানে গিয়েছি ঠিক। তবে সেখানে সরকারি কোনো চালের বস্তা পাওয়া যায়নি। তারা এমপির নামের উপহারের প্যাকেট করছেন দেখেছি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন হোসেনের সাথে কয়েকবার ফোন দেয়ার পরেও তিনি ফোন ধরেননি। আর অভিযুক্ত পারভেজকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।