ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে বিবাদী করে থানায় মামলা হলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তসহ ২ জনকে আটক করে সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুপ্টি গ্রামের দত্তের বাড়িতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্তরা ওই গ্রামের বিভিন্ন নিরিহ মানুষের সাথে কারণে-অকারণে বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা একই বাড়ির বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. সুজন ভাটকে বিভিন্ন সময় মারধর করে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এইসব অভিযোগে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা মুচলেকা ও অর্থদণ্ড দিয়ে আপোষ নিমাংসা করে। এরই ধারাবাহিকতায় পুনরায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে পথিমধ্যে একা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে ভুক্তভোগীর মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়। অভিযুক্তদের অতর্কিত হামলায় নিরিহ অটোরিক্সা শ্রমিক সুজন মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে তার ডাকচিৎকারে আশে পাশের মানুষজন এগিয়ে এসে ঘটনার দিন রাতেই ভিক্টিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে ঘটনার শিকার সুজন বাদী হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজু (৪৫) ও তার আরো ৪ সহোদরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি আমলে নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজু ও জসিম উদ্দিনকে আটক করে গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা জনবলে বেশি হওয়ায় ওই এলাকাতে নিরিহ মানুষের সাথে উশৃঙ্খল আচরণ ও কারণে-অকারণে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে।
মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত ২ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
