মাদক মামলার আসামি ছিনতাই, আটক ২
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে মো. জাকির হোসেন (৩৮) নামের এক মাদক মামলার আসামিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৩ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাজীগঞ্জ থানা সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের বাকিলা পূর্ব বাজারস্থ জামে মসজিদ মাঠে এই আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ২০ মাদক মামলার আসামি মো. জাকির হোসেনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। সে ওই ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের অপর এক মাদক বিক্রেতা ও সিএনজিচালিত স্কুটার চালক বাকিলা গ্রামের আ. মজিদের ছেলে মনির হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার জানাযা পরের দিন শুক্রবার সকালে বাকিলা পূর্ব বাজারস্থ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে মসজিদ মাঠ থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক মামলার আসামি জাকির হোসেনকে আটক করেন হাজীগঞ্জ থানার এএসআই মোজাম্মেল হোসেন। এসময় জাকির হোসেনের পক্ষ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লি তাকে জানাযা অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানায়।
পুলিশ ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে এবং উপস্থিত মুসল্লিদের অনুরোধে হাতকড়া পড়া অবস্থায় আসামি জাকির হোসেনকে জানাজা আদায়ের সুযোগ করে দেবার সাথে-সাথে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে ধরার চেষ্টা করলে তার সহযোগী বেশ কয়েকজন পুলিশের উপর হামলা করে। এসময় জাকির হাতকড়া পড়া অবস্থায় পালিয়ে যায়।
এদিকে মাদক মামলার আসামি ছিনতাইয়ের দিনই পুলিশ বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের এবং ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করে। এরপর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে জানাযায় অংশ নেওয়া মাদক ব্যবসায়ীর এলাকার বেশিরভাগ মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় ১৩জনকে আসামি করে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং হাতকড়া উদ্ধারসহ দুই আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাকির হোসেনসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করবে। পুলিশ নিরাপরাধ কাউকেই আটক করবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
