ফরিদগঞ্জে প্রতারক কামরুজ্জামান আটক

বার-বার বিয়ে করা যার নেশা, প্রতারণাই তার পেশা

স্টাফ রিপোর্টার
বারে বার বিয়ে, প্রতারণা ও নারী নির্যাতন করা কামরুজ্জামানকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ কামরুজ্জামান সাদ্দাম ও তার বাবা আবুল কালামকে আটক করে। বুধবার সকালে আটকদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা ইউনিয়নের পশ্চিম রুপসা গ্রামের আবুল কালামের বড় ছেলে বহু বিবাহ ও যৌতুকলোভী এবং নারী নির্যাতনকারী কামরুজ্জামান সাদ্দামকে অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে নারী শিশু ও যৌতুক মামলায় ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদ হোসেনের নির্দেশনা এসআই আনোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে আটক করে। এসময় তার বাবা আবুল কালামকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী লিমা আক্তার জানান, পশ্চিম রুপসা বেপারী বাড়ি (যুগি বাড়ি) আবুল কালামের বড় ছেলে কামরুজ্জামান সাদ্দামের সাথে গত ২ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু সে ইতোপূর্বে একাধিক বিয়ে ও সংসার করার তথ্য গোপন করে আমাকে পারিবারিকভাবে বিবাহ করেন। আমার বাবা প্রবাসে থাকা ও পরিবারে সচেতন কেউ না থাকায় কামরুজ্জামান সাদ্দাম ও তার বাবা আবুল কালাম পারিবারিকভাবে তথ্য গোপন করে তার একাধিক বিয়ে ও স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আমাকে বিয়ে করেন। তাদের এই প্রতারণা কাজে তার মামা ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের গ্রামের সেলিম মুন্সি ও দেলোয়ার হোসেন দুলাল সহযোগিতা করেন। তারা আমাদের গ্রামের হওয়ায় আমার বাবাকে ফোনে ও আমার মাকে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যে তথ্য ও একাধিক বিয়ে কথা গোপন করে আমার পরিবারকে রাজি করান।
তিনি আরো বলেন, আমি বিয়ের কিছুদিন পর দেখতে পাই আমাদের বাড়ি থেকে দেওয়া আমার সাথে স্বর্ণালংকার সে বিক্রি করে এবং আমার স্বামী কামরুজ্জামান সাদ্দাম গোপনে ইমুতে নারীদের সাথে বাজে-বাজে কথা বলে। পরবর্তীতে এক নারী তাকে ফোন করলে আমি রিসিভ করি এবং সে (সালমা বেগম) তার বর্তমান স্ত্রী দাবি করে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। আমার সাথে কেনো এমন করছেন জানতে চাইলে আমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি উল্টো আমার সাথে মারমুখিসহ ও খারাপ ব্যবহার করেন। আমাকে আমার বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক আনতে পরিবারের সবাই চাপ প্রয়োগ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। এরা সবাই একটা প্রতারক চক্র। এই বিষয়ে আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে জানালে আমার ভাই ও আত্মীয় স্বজন আমার শ্বশুর বাড়িতে এসে বহু বিবাহ, আমার সাথে খারাপ ব্যবহার, যৌতুেকর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আমার স্বামী কামরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার ভাই ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মারমুখি আচরণ ও খারাপ ব্যবহার করে। আমাকে আমাদের বাড়িতে নিতে চাইলে আমার আত্মীয়-স্বজনকে ফিরিয়ে দেন। পরে আমাকে কামরুজ্জামান সাদ্দাম, দেবর কামরুল হাসান, শ্বশুর আবুল কালাম ও শাশুড়ি আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। খবর পেয়ে আমার আত্মীয়-স্বজন আমাকে নিয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন। এই প্রতারক পরিবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে মেয়ের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন জানান, আমার বাবা প্রবাসে থাকে। আমি হাজীগঞ্জ চাকরি করি। এর মধ্যে আমাদের পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও সেলিম তাদের ভাগিনা পশ্চিম রুপসা বাড়ি। আমার প্রবাসী বাবাকে ফোনে ও বাড়িতে বোনকে নিয়ে থাকা মাকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যে কথা বলে রাজি করে ওই ছেলের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করেন এবং আমাদের সাথে কামরুজ্জামান পরিবার ও তার আত্মীয়-স্বজন প্রতারণা করে আমার বোনের জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমার বোনকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন তারা এবং ২০১৭ সালে প্রথম বিয়ে এবং ২০২১ সালে কামরুজ্জামান সাদ্দাম দ্বিতীয় বিয়ে করা সত্ত্বেও তার পরিবার আমার বোনকে বিয়ে করিয়ে তার জীবন ও আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এই প্রতারকদের উচিত বিচার চাই এবং সে ও তার প্রতারক পরিবার যেনো নতুন করে কোন বোনের জীবন নষ্ট না করে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ওসি’র সার্বিক দিক নির্দেশনা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১০/৩৫৭ এজহারভুক্ত আসামি কামরুজ্জামান সাদ্দাম ও আবুল কালামকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করি। সকালে আদালতে আসামিদের প্রেরণ করা হয়।

২০ অক্টোবর, ২০২২।