ফরিদগঞ্জে ব্যক্তি পূজা ও বিলবোর্ডের রাজনীতি জমজমাট


আবু তালেব সরদার
ফরিদগঞ্জে গত কয়েক বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন যেন ব্যক্তি পূজা আর বিলবোর্ডে জমজমাট। আগের মতন এখন আর দলের জন্য বার-বার মিটিং-মিছিল লাগে না। অল্প ক’দিন দলের একজন নেতার সাথে ‘জ্বি হুজুর’ আর ব্যক্তি পূজা করলেই ইউনিয়ন ও উপজেলার লিডার বনে যাওয়া একটা ব্যাপারই না। এছাড়া একবার বিলবোর্ডে ছবি হাকিয়ে রাস্তার মোড়ে সাঁটাতে পারলেই নেতা বনে যাওয়া এখন মামুলি ব্যাপার। রাজনীতির এ পেক্ষাপট বদলে যাওয়ার কারণে ফরিদগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও দলপ্রেমিরা রাজনীতি থেকে হাত গুটিয়ে ঘরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
ফরিদগঞ্জ ২০০১ সালে যারা বিএনপি’র হাতে মার খেয়ে ও অর্থ সম্বল গচ্চা দিয়ে তারা আজ সুদিনে কে কোথায়? খোঁজ নেওয়ার যেন কেউ নেই। এক সময় বিলবোর্ডে রাজনীতি ছিল না। এখন রাস্তায় বের হলেই শুধু বিলবোর্ড-ব্যানারের মধ্যে যেন ফরিদগঞ্জের রাজনীতি দেওয়ালে ঘেরা আছে। অথচ দেখলে মনে কষ্ট হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ও জননেত্রীর ছবিকে বিলবোর্ডের উপরিভাগের ছোট্ট পরিসরে ছবি দিয়ে নিজের ছবিকে বড় করে সাঁটিয়ে দিয়ে জাতিকে কলঙ্কিত করছে। বর্তমানে বিলবোর্ডের এত বড় অনিয়ম যেন জেলা-উপজেলার নেতারা যেন কেউ দেখেনি। আর দেখলেও না দেখার ভান করছে। অপরদিকে যারা এসব বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি দিচ্ছে এরা কারা? এদের পূর্বের রাজনীতির পরিচয় কি? এসব অনুপ্রবেশকারীরা দল ক্ষমতায় না থাকলে আগামি দিনে দলে থাকবে কি? এমন প্রশ্ন এখন ফরিদগঞ্জ প্রকৃত আওয়ামী পরিবারদের। তাছাড়া প্রশ্ন উঠেছে তারা আগামি দিনে দলের যে কোন কঠিন কর্মসূচীতে বা ভোটের মাঠে থাকবে কী? না সাদা পোষাকে কালো মোষ সেজে দলের বারটা বাজাবে।
এদিকে কেন্দ্রিয় কমিটি থেকে বলা আছে কোন বিলবোর্ডে জাতির জনক ও জননেত্রীর ছবি ছাড়া সাধারণ সৌজন্যের কর্মীদের নাম থাকবে, কিন্তু ব্যক্তির ছবি দেয়া যাবে না। অথচ এসব তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অনুপ্রবেশকারীরা যত্রতত্র বিলবোর্ড সাঁটিয়ে প্রকৃত নেতাদের রাজনৈতিক সম্মান নষ্ট করছে।
বর্তমানে এসব বন্ধ না করলে প্রতিটি ইউনিয়নে অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা ঘরে গেলে রাজনীতি মেধাশূন্য হবে এমনটা মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।