ফরিদগঞ্জে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা একটি পরিবার

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গোঁজামিল

নারায়ন রবিদাস
আমি বিদ্যুতের এ মিটারটি অনেক কষ্টে নামিয়েছি। আমার স্বামী মাইন উদ্দিন একজন শ্রমিক। আমরা কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে জীবনে বেঁচে আছি। প্রতি মাসে আমগো বিল আসতো একশ’ টাকা থেকে দেড়শ’ টাকা। কিন্তু কেন মার্চ-২০২১ মাসে এতো টাকা বিল আসছে, তা আমার জানা নেই।
পল্লী বিদ্যুতের স্যারেরা আমার সাথে যে ব্যবহার কইচ্ছে আমরা গরিব তাতে কি হইছে, আমরাও তো মানুষ। হেতারা আমগোরে বিল দিতাম কই অফিসেত্বে নামাই দিছে। আমরা একটা বাতি আর ফ্যান ছাড়া কোন কিছু চালাই না। আন্নেরা তো দেখছেন এছাড়াও আমাদের ঘরে আর কোন কিছু নাই। এক মাসে ১১০/১২০ টাকার হরিবর্তে ৭৮,৬৮৯ টাকা বিল কেন্নে অয়? কিল্লাই বিল দিতাম? সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
এভাবেই বর্ণনা করেন ভূতুরে বিলের শিকার রুমা আক্তার নামে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহক। তার ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে একমাসে ৭৮ হাজার ৬শ’ ৭৯ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তাই ভূতুরে এই বিলে বর্তমানে দিশেহারা ঐ পরিবারটি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গোঁজামিলে আরো অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন এই দায়ভার কার? গ্রাহক ও স্থানীয়দের অভিযোগ ওই মিটারটিতে মাত্র একটি এনার্জি লাইট ও একটি ফ্যান ব্যবহৃত হয়। সর্টসার্কিটের কারণে এই বিল এসেছে বলে এমন একটি অযৌক্তিক কারণ ও গোঁজামিল দেখিয়ে জোনাল অফিসের ডিজিএম এই নিয়ম বহির্ভূত বিল পরিশোধ করতে তাদের বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ করেন রুমা আক্তার।
ভূতুড়ে বিলের ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেপারী বাড়িতে গৃহবধূ রুমা আক্তারের ব্যবহৃত পল্লী বিদ্যুৎ (হিসেব নং ০৩-৫৩৬-১১৭৮) নং মিটারটিতে।
সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর যাবত ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১শ’ টাকা, ১শ’ ২০ বা ১শ’ ৫০ টাকার মধ্যে বিলের সীমাবদ্ধতা ছিলো। বিদ্যুতের আগের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে রূমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮,৬৮৯ টাকা। এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে, সেখানে গিয়ে কোন সমাধান মিলেনি বরং কর্তৃপক্ষের ব্যবহারে নাখোশ হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুমা বেগম।
এদিকে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত ঘরটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া আর কোন কিছুই চোখে পড়েনি। ঐ মিটারটি দিয়ে অন্য কিছু চার্জ দেয়া কিংবা ব্যবহার করা কিংবা সর্ট সার্কিটের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা ঘটনার স্থান পরিদর্শনে না গিয়ে দাবি করেছেন মিটারটিতে সর্টসার্কিট হয়েছে। তাই এমন বিল এসেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরুল হোসাইনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না। আমি খোঁজ নিয়েছি ওইখানে সর্টসার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্যে। সর্টসাকির্ট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে, কোনো অগ্নিকান্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোন ক্ষতি হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আপনারা ইউএনও মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। ইউএনও স্যার বিষয়টি জানেন- এ বলে তিনি আর কথা বলেননি।
এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সাথে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তিনি ডিজিএমকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণযোগ্য কোন উত্তর দিতে পারেননি।

২৬ মে, ২০২১।