ফরিদগঞ্জে মামলায় পরাজিতদের হয়রানির শিকার ছাহাম

স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত দক্ষিণ চররাঘব রায় গ্রামের মৃত আহমদ উল্লাহ রাঢ়ীর ওয়ারিশ সুরুজ রাঢ়ী গং দেওয়ানী বন্টন ৯৪/১৯৬১ রায় ও দখল পেয়েও বাদী কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হাসমতেরন্নেছা গং বাদী এবং হালিম খা গং বিবাদী, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চাঁদপুরে ঐ মামলাটি পরিচালিত হয়। ১ থেকে ১২নং মূল বিবাদী ছিল মৃত ইউনুছ রাঢ়ী, ইউনুছ রাঢ়ী মারা যাওয়ার পর বিবাদী শ্রেণিভূক্ত হন তার ছেলে বর্তমানে মৃত আহমদ উল্লাহ রাঢ়ী গং। অপরদিকে বন্টনের প্রার্থনায় নালিশি জমি জমির ভূমি সম্পর্কে এই মামলা পরিচালনা করার সময় বিগত ২৬ জুলাই ১৯৯৫ তারিখে দোতরফা সূত্রে প্রাথমিক ডিগ্রি হয়। তৎপর প্রাথমিক ডিগ্রির কার্যক্রম শুরু করিলে নালিশি জমি সম্পর্কে জৈনিক আমিন মিজি গং মিথ্যা ভুয়া দাবি করে আদালতে পুনরায় দেওয়ানী বন্টন ১১৩/২০০৪ দায়ের করে ইতোপূর্বে নালিশি ভূমি সম্পর্কে দেওয়ানী বন্টন ৯৪/১৯৬১ প্রাথমিক ডিগ্রির এ কার্যক্রম স্ট্যে প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তৎপর নালিশি ভূমি সম্পর্কে আমিন মিজি গং এর দায়েরকৃত পরবর্তী ১১৩/২০০৪ বন্টন মোকাদ্দমাটি প্রার্থনায় হাইমচর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বদলি হয়ে নতুন নম্বর ৪৭/২০১১ প্রতিস্থাপন হয়। তৎপর মোকাদ্দমাটি চলিত অবস্থায় থাকায় ওই মোকাদ্দমার বাদীপক্ষ কোন তদবির না করায় মোকাদ্দমা বিগত ২০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে খারিজ হয়ে যায়। ওই অবস্থায় নালিশি ভূমি সম্পর্কে মূল মোকাদ্দমা দেওয়ানী বন্টন ৯৪/১৯৬১ প্রাথমিক ডিগ্রির অনুবলে ফাইনাল ডিগ্রির কার্যক্রম গ্রহণ করিতে আইনগত কোনো বাঁধা ছিল না।
উল্লেখ্য, ১ থেকে ১২নং বিবাদী ঐ মোকাদ্দমাটি পরিচালনা করে ২ একর ৩৭ শতাংশ ৭৫ পয়েন্ট ভূমি ছাহাম প্রাপ্ত হয়। দেওয়ানী বন্টন ৯৪/১৯৬১ মোকাদ্দামাটি রায়ের পর মামলার নথি জেলা মহাফেজখানায় থাকার পর ১ থেকে ১২নং বিবাদীর ওয়ারিশ সুরুজ মিয়া গং আদালতের মাধ্যমে দখল বুঝে পাওয়ার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ১ থেকে ১২নং ছাহাম প্রাপ্ত। বিবাদীপক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গত ৩ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইবনে আল জাহেদ, জেলা জজ আদালতের নাজির গাফ্ফার খান নাদিম, সার্ভে কমিশনার ইব্রাহিম খলিল সরকার, জারিকারক মিজানুর রহমান, ফরিদগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাদীপক্ষের স্থাবর অস্থাবর উচ্ছেদ করে ১ থেকে ১২নং বিবাদী পক্ষের ছাহাম প্রাপ্ত ওয়ারিশদের উক্ত ভূমি দখল বুঝিয়ে দেয়।
এ প্রতিনিধিকে ১ থেকে ১২নং ছাহাম প্রাপ্ত বিবাদী পক্ষের ওয়ারিশ সজিব মিয়া জানান, আদালতের মাধ্যমে আমাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকে বাদীপক্ষের ওয়ারিশরা আমাদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এমনকি গায়ে পড়ে প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ নভেম্বর আমাদের সাথে ঝগড়া করে আমাদের নামে ফরিদগঞ্জ থানায় হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন ফারজানা বেগম।
এ প্রতিনিধি ফারজানা বেগমের কাছে ফোন করে জানতে চাইলে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে ছাহাম প্রাপ্ত ভূক্তভোগী মহলের দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করছে।

০৬ ডিসেম্বর, ২০২১।