ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা বীরনিবাস নির্মাণে বাঁধা

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
নিজ ভূমি স্বাধীন করার জন্য অস্ত্র হাতে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেলেও আজ তিনি অসহায়। পৈত্রিক সম্পত্তির প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। কৌশলে দখলের কারণে শুধু ভিটেমাটি অবশিষ্ট থাকা একমাত্র অবলম্বন থাকলেও এখন সেটিও হারানোর অবস্থায় পৌঁচেছে। ভাঙাচোরা ঘরের স্থানে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘বীরনিবাস’ নির্মাণ শুরুর হলেও বাঁধা দানের মাধ্যমে তার নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে প্রভাবশালী মহল। ফলে ওই অশীতিপর ওই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর বীরনিবাস প্রকল্পটিও বাঁধার স¤ু§খীন।
স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজের ভিটেমাটিটুকু ছাড়া আর সবটুকু সম্পদই পার্শ^বর্তী আওয়াল চৌধুরী গংদের লোলুপ দৃষ্টিতে খুইয়েছেন। জরাজীর্ণ ঘরের স্থানে সর্বশেষ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বীরনিবাসের একটি ঘর বরাদ্দ পান তিনি।
প্রশাসনিক সব কাজ শেষে ঠিকাদার যখনই ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের কাজ শুরু করবেন তখনই বিপত্তি ঘটে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাঙাচুরা ঘরটি ভেঙে সেই স্থানে ঠিকাদার বীরনিবাসের কাজ শুরুর পর কথিত প্রভাবশালী আদালতের মাধ্যমে ওই জায়গার উপর ১৪৫ ধারা জারি করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বীরনিবাসের নির্মাণ কার্যক্রম।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বীরনিবাস নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ সব কাগজাদি দেখেই ঘর তৈরির অনুমোদন দেন। কিন্তু প্রভাবশালী আনোয়ার চৌধুরী গংরা আদালতকে এটি প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘বীরনিবাস’ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। ফলে গত ১১ আগস্ট থেকে ভবন নির্র্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকে খোকন চন্দ্র সরকার গংরা বসবাস করছেন গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা গ্রামে (আষ্টা মৌজা, খতিয়ান ৫৬৪, দাগ নং ৬৭০, জমির পরিমাণ ৬ শতক) তার নিজ সম্পত্তির উপর। বীরনিবাস প্রকল্পের নির্মাণ কাজ গত ৬ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চললেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র সরকার জানান, আমরা স্বাধীনতার আগে থেকে এখানে বসবাস করি স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের প্রতিপক্ষ প্রভাশালী আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আব্দুল রহিম চৌধুরী গংরা পুরো বাড়ি দখল করার জন্য আমার এক ভাইয়ের জমি কৌশলে ক্রয় করে। তারপর থেকেই তারা আমাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং আদালতে মামলাও করে। আদালতে আমি তিনবার রায় পেয়েছি। তারপরও তারা বসে থাকেনি, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমাদের ঘর না থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস প্রকল্প দেয়। সম্প্রতি ভাঙাচোরা ঘর সরিয়ে ভবন তৈরির সময়ে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের হয়রানি শুরু করেছে। আমাদের কাজ বাঁধা প্রদান করে বন্ধ রেখেছে।
তিনি আরো জানান, আবাসন প্রকল্প যখন আসে, তখন ভূমি অফিস থেকে যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রভাবশালীরা আমাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন। আমি ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দারস্থ হয়েছি। যুদ্ধ করেছি দেশের মাটি রক্ষায়, এখন নিজেই ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় রয়েছি।
এ ব্যাপারে আনোয়ার চৌধুরী গংদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমা-ার সরোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে সহকারী কমিশনারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানির সময়ে প্রভাবশালীদের এই হীনকাজের বিরোধিতা করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমুন নেছা জানান, সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

২১ আগস্ট, ২০২২।