অদৃশ্য ক্ষমতায় বাড়ছে অনিয়ম দুর্নীতি
স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষা অফিসাররা অদৃশ্য ক্ষমতাবলে বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছেন একই কর্মস্থলে। এতে করে শিক্ষা অফিসটিতে বাড়ছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। চাকুরি বিধিমতে কোন কর্মকর্তা ৩ বছরের বেশি একই কর্মস্থলে না থাকার বিধান থাকলেও বিপত্তি কেবল ফরিদগঞ্জ শিক্ষা অফিসটিতে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকেই কমবেশি অর্ধযুগ এমনকি এক দশক পর্যন্ত একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। যার কারণে তারা এখন প্রকাশ্য দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। অভিযোগ আছে, অনেকটাই জিম্মি হয়ে উপজেলার কর্মরত শিক্ষকরা চোখ বুঝে অফিসটির এমন দুর্নীতিকে মেনে নিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অফিসটির একটি সূত্র জানিয়েছে, কেবল চলতি দায়িত্ব নিয়েই ইতোমধ্যে ৫ বছর অতিক্রম করছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনির উজ্জামান খান। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এক দশক পার করে দিয়েছেন। অপরদিকে অর্ধযুগ অতিক্রম করে বহাল তবিয়তে আছেন মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ও ইলিয়াস আহমেদ। ইতোমধ্যে তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে আছেন আরেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান।
এ উপজেলায় কর্মরত ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাধে এসব কর্মকর্তারা এখন শিক্ষকদের জন্য এক ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
অভিযোগ আছে, উপজেলার স্কুলপ্রতি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত সব ধরনের বরাদ্দের বিপরীতে দিতে হয় নির্ধারিত কমিশন। কমিশন কম-বেশি হলে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী শিক্ষককে মানসিক হয়রানি ও আর্থিক হয়রানির শিকার হতে হয়। এখন এই অফিসটিতে ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে।
এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেও অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসাররা বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে আছেন অদৃশ্য ইশারা ইঙ্গিতে। পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তবে এমন অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি অফিসটির কোন কর্মকর্তাই। তাদের দাবি অর্ধেক জনবল দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করা অনেকটাই কষ্টের। যার কারণে কেউ কেউ বা অতি উৎসাহীরা শিক্ষা অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।
১২ এপ্রিল, ২০২২।
