নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে সততার এক উজ্জর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুমা বেগম নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। একটি সিএনজি স্কুটারে প্রায় আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, একটি মটরোলা এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল পেয়েও তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে প্রকৃত মালিককে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ মার্চ) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রকৃত মালামাল ফিরে পেয়ে হুমায়ুন মিজি ও তার স্ত্রী আছমা বেগম দম্পতি আনন্দে আপ্লুত হয়ে সুমা বেগমের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত ডিউটি অফিসার মো. সুমন হোসেন সততার এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাৎক্ষণিক সুমা বেগমকে পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের ইদ্রিস মিজির ছেলে হুমায়ুন মিজি তার স্ত্রী আছমা বেগমকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে একটি সিএনজি স্কুটারে করে ফরিদগঞ্জ পৌরসভাধীন কালিরবাজার চৌরাস্তায় নামেন। এসময় অসাবধনতাবশতঃ আছমা বেগম তার ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগটি সিএনজি স্কুটারে ফেলে রেখে যান। যাতে প্রায় আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, একটি মটরোলা এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল ছিল। এরপর বেশ কিছুক্ষণ পর আছমা বেগমের ভ্যানিটি ব্যাগটির কথা মনে পড়ে। ততোক্ষণে সিএনজি স্কুটারটি তো সেই স্থানে নেই।
অপরদিকে, ভ্যানিটি ব্যাগটি সিএনজি স্কুটারে ফেলে রেখে যাওয়ার পর ঐ সিএনজি স্কুটারের অপর যাত্রী উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাশী রবিউল ইসলামের স্ত্রী সুমা বেগম তা দেখতে পেয়ে তিনি তা নিজের হেফাজতে নেন।
সর্বস্ব হারিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে হুমায়ুন মিজি তার স্ত্রী আছমা বেগম ফরিদগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। এসময় ফরিদগঞ্জ থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার মো. সুমন হোসেন আছমা বেগমের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল নম্বরটি সংগ্রহ করে তাতে ফোন দেন। তখনই অপর প্রান্ত থেকে সুমা বেগম ফোনটি রিসিভ করে তার পরিচয় দিয়ে ভ্যানিটি ভ্যাগটি তিনি সিএনজি স্কুটারে পেয়েছেন বলে জানান। পরে সুমা বেগমকে থানায় আসতে বললে তিনি নিজে থানায় হাজির হয়ে প্রকৃত মালিককে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল ফিরিয়ে দেন। এসময় প্রকৃত মালামাল ফিরে পেয়ে হুমায়ুন মিজি ও তার স্ত্রী আছমা বেগম দম্পতি আনন্দে আপ্লুত হয়ে সুমা বেগমকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আর ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত ডিউটি অফিসার মো. সুমন হোসেন সততার এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাৎক্ষণিক সুমা বেগমকে পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
১৭ মার্চ, ২০২২।
