স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রামদাসেরবাগ গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সফিক বাহিনীর দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের এলাকার বিএনপি-জামাতের সমর্থক চিহ্নিত সন্ত্রাসী, কয়েকটি মামলার আসামি মো. সফিক হাজি রামদাসেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা মো. দুলাল হোসেন (পিতা আ. জলিল) এর কাছে জমিজমা বিষয়ে চাঁদা দাবি করে। এ দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসী সফিক হাজির নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্য এবং সফিক হাজির ছেলে মামুন, ভাতিজা মাসুম ও নয়নের নেতৃত্বে আরো ৮/১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুলাল হোসেনের বসতঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ নিয়ে যায়। এতে বাঁধা দেয়ায় তারা দুলাল হোসেন, তার স্ত্রী খালেদা আক্তার এবং ছেলে রোকন হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করে।
অপরদিকে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসা দেখে এ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। বতমানে তারা এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত দুলাল হোসেন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় তারা অতর্কিত হামলা করে আমার ঘর লুট করে সব নিয়ে গেছে। আমার ঘরে থাকা সব কিছু তারা নিয়ে গেছে। ঘরে থাকা আমার স্ত্রীর স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা তারা লুট করেছে। আমাদের এলাকায় কোনো জমি ভরাট, নতুন বাড়ি-ঘর করা হলে এবং জমিজমা ক্রয়-বিক্রয়ে তাকে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে চলে অত্যাচার। সে (সফিক হাজি) এই অঞ্চলের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে শুধু আমাদের ইউনিয়নে নয়, ঐ অঞ্চলে সে তার বাহিনীর দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে তার ভাতিজা নয়ন অস্ত্র ও মাদকসহ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে। যা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ ছাপানো হয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রকিব ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে জেনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন।
