
রুহুল আমিন খান স্বপন
মঙ্গলবার সকাল থেকে ফরিদগঞ্জে জেঁকে বসেছে হাঁড় কাপানো শীত। শৈত্য প্রবাহ ও তীব্র শীতের কারণে জবুথবু হয়ে পরেছে এ অঞ্চলের মানুষের জন-জীবন। তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ।
গত সপ্তাহে বৃষ্টি থামার পর শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকলেও সন্ধ্যায় কুয়াশার সাথে মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জন-জীবন। কনকনে ঠান্ডায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গ্রামের লোকজনের চলাচল অনেক কমে গেছে। প্রচন্ড শীতের কারণে দেখা দিচ্ছে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ সর্দি, কাশি, আমাসয় ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে শীতের প্রকোপে ভীড় বাড়ছে গরম কাপড়ের দোকানে। মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
ফরিদগঞ্জের হাড় কাঁপানো শীতে খেটে খাওয়া মানুষের দূর্ভোগ। এদিকে শীতে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর শ্রমিকেরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছেন তারা। শীতের কারনে কাজ করতে না পারায় খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এছাড়া ফরিদগঞ্জ পৌরসভাসহ বালিথুবা, কাঁশারা, কামতা, গল্লাক, রূপসা, পাইকপাড়া, ইছাপুরা, চান্দ্রা, কালিরবাজার, গাজীপুরসহ এলাকার লোকজন আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
ফরিদগঞ্জের ইছাপুরা এলাকার রিক্সা চালক শাহাজান চৌধুরী বলেন, তীব্র শীতে হাত-পা অবস হয়ে আসচ্ছে। রাস্তায় রিক্সা চালাবো কিভাবে। তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত কমানোর চেষ্টা করছি।
দোকানদার মহির হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর থেকে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের এলাকার অনেক পরিবার দরিদ্র হওয়ায় শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় কিনতে পারছে না।
উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষীণ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সেলিম খান বলেন, হাঁড় কাপানো শীতে সবাই কষ্টে আছে। গ্রামের অনেকে খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতের কারনে গ্রামের শিশুরাসহ বয়স্ক মুড়ব্বিরা কষ্টে আছেন।
এদিকে বিএনপির পক্ষ শীতার্ত মানুষের জন্য থেকে কম্বল বিতারণ শুরু করা হয়েছে।
