ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
গত এক বছরের সময়কালে জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সফলতা অর্জনের জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বিদায়ী ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী আফরোজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
গত শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী নোমানের সভাপতিত্বে এবং অর্থ সম্পাদক রাসেল হাসানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব ও বিশিষ্ট শিশু সংগঠক লায়ন মাহমুদ হাসান খান।
সংবাদকর্মীদের মধ্যে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ, সাবেক সভাপতি ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ পাঠান, সহ-সভাপতি কারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, যুগ্ম-সম্পাদক আমান উল্যা আমান, সহ-অর্থ সম্পাদক জাকির হোসেন সৈকত, সদস্য নুরুল ইসলাম ফরহাদ।
বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে, কিন্তু কর্ম আমাকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছে। গত ৯ বছরে আমি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে চেষ্টা করেছি, জনগণের জন্য কাজ করতে। সেই চেষ্টাও ফরিদগঞ্জে করেছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত গৃহহীন পরিবারের জন্য দেয়া সরকারি ঘর নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে চেষ্টা করেছি ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য। সরকারি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয়ে এবং উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে আমার দায়িত্ব পালনের জন্য। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কাজ এগিয়েছে। আরো কিছু কাজ হয়তোবা কিছুদিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। ফরিদগঞ্জে এসে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। তারা উপজেলার উন্নয়নে জনগণের একটি অংশের প্রতিনিধি হিসেবে যেই ভূমিকা রেখেছেন, আমি অনেক স্থানেই তা দেখিনি।
তিনি আরো বলেন, এখানে এসেই একটি বৃহৎ উপজেলা ও ৫ লাখ লোককে সামলানোর মতো গুরুদায়িত্ব কিভাবে পালন করবো তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এখানে এসে আমার ভুল ভেঙ্গেছে। এই এলাকার মানুষ সহযোগিতাপরায়ন। যার কারণে আমি গত এক বছরে নির্দ্বিধায় কাজ করতে সক্ষম হয়েছি।
বিদায়ী অতিথি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন বলেন, সহকারী কমিশনার হিসেবে আমার প্রথম পোস্টিং এখানে। আমি চেষ্টা করেছি কিভাবে মানুষের সেবা করা যায়। মানুষ যাতে হয়রানি মুক্তভাবে জমি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধান করতে পারে সেই চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যেই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নতুন ভুমি অফিস স্থাপনের কাজ চলছে। অনলাইনের মাধ্যমে জমি খারিজের আবেদন করার প্রক্রিয়াটিকে আরো তরান্বিত করেছি। এসব কাজসহ সরকারি আরো কাজগুলো সামলাতে যখনই ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের সহায়তা চেয়েছি, তখনই তারা সহযোগিতা করেছেন।
আলোচনা শেষে বিদায়ী দুই অতিথিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
