দেশপ্রেমিক ও নিঃস্বার্থ মানুষ ছিলেন ফ্লা. লে. এবি সিদ্দিক
…..মুক্তিযোদ্ধা এম.এ ওয়াদুদ
মাহফুজ মল্লিক
চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও ফ্লা. লে. এবি সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম.এ ওয়াদুদ বলেছেন, একজন দেশপ্রেমিক, নিঃস্বার্থ ও গণমানুষের নেতা ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ফ্লা. লে. (অব.) এ.বি সিদ্দিক। তিনি ছিলেন একজন সাদা মনের এবং পরোপকারী মানুষ। দেশের কথাই ভাবতেন এ মানুষটি। যার বাস্তব উদাহরণ
রেখে গেছেন তার বসত বাড়িটি।
তিনি আরো বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন নেতা ছিলেন তিনি। যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি লড়েছেন। তার সাহস, বলিষ্ঠ কণ্ঠ অনেকে অনুকরণ করতো। দেশ মাতৃকার প্রতি তার ছিলো মমত্ববোধ, ভালোবাসা। এ.বি সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ গুণী মানুষকে আমাদের মাঝে বাচিয়ে রাখবো। ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।
গত ২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ.বি সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক স্মরণ সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বি.এইচ এম কবির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং এবি সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বাদলের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা হক।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মতলব থানা শাখার আহ্বায়ক, মতলব পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন প্রধান, মতলব কচি-কাঁচা মেলার সভাপতি মাকসুদুল হক বাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. লিয়াকত হোসেন, ফারুক বিন জামান, মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বশির উল্লাহ সরকার, মরহুমের পুত্র জাবেদ হাসান সিদ্দিকী, মতলব প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার মোল্লা। পরে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ফ্লা. লে. (অব.) এবি সিদ্দিক ১৯২৭ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া সরকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হাসান আলী সরকার। ১৯৩৯ সালে বরদিয়া মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে মতলবগঞ্জ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সনে মতলব স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় পাশ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ নম্বরসহ ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ‘মি. জিন্নাহ ‘উর্দুই কেবল উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে’ ঘোষণা দিলে যে সব ছাত্র তার প্রতিবাদ করে, সিদ্দিকি তাদের একজন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রথম জানাযা শেষে সাবেক সাংসদের মরদেহ মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া সরকার বাড়িতে দাফন করা হয়।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন : এ. বি সিদ্দিক প্রথম কর্মজীবন শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে শুরু করলেও ১৯৫১ সালে রাজকীয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদান করে বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে কর্মকাল কাটানোর পর পূর্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনীর রিক্রুটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তার জন্মস্থান এলাকা অনেক যুবককে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে নিয়োগ দেন। ১৯৬৪ সনে স্বেচ্ছায় বিমান বাহিনী থেকে অবসর নিয়ে বাঙালির স্বার্থ সম্পর্কিত সকল আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৃহত্তম মতলব থানার সভাপতি ও চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে চাঁদপুর মহকুমার প্রধান সংগঠক হিসেবে মুক্তিবাহিনীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুমিল্লা-২১ আসনে থেকে এমপিএ, এমসিএ ও এমপি নির্বাচিত হন। তিনি কর্মজীবনে মতলব উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন।
এ. বি সিদ্দিক এলাকায় ২টি কলেজ, কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। মতলবের বিখ্যাত ‘আন্তর্জাতিক উদরাময় কেন্দ্র’ স্থাপনে এবং প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মতলব উপজেলা শাখা ও চাঁদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, মতলব দক্ষিণ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের প্রধান উপদেষ্টা ও মতলবগঞ্জ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
